সাবধান! কর্মক্ষেত্রই কি হয়ে উঠছে পরকীয়ার আস্তানা? গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

কর্মক্ষেত্র হলো আমাদের দিনের সিংহভাগ সময় কাটানোর জায়গা। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষা এবং গবেষণা বলছে, পেশাগত জীবনের ধরন ও কাজের পরিবেশ অনেক সময় মানুষের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলে। বিশ্ববিখ্যাত বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং সাইট ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’ এবং আরও কিছু সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ কিছু পেশার মানুষের মধ্যে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি।

কেন নির্দিষ্ট কিছু পেশায় এমনটা ঘটে? গবেষণায় উঠে আসা সেই পেশাগুলো হলো:

১. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা (নার্স ও চিকিৎসক)
এই পেশার মানুষের কাজের সময় অত্যন্ত দীর্ঘ এবং অনিয়মিত। দীর্ঘক্ষণ চাপের মধ্যে কাজ করা এবং সহকর্মীদের সাথে রাত কাটানোর ফলে এক ধরণের মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়। স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় তাঁরা সহকর্মীদের সাথে আবেগপ্রবণ বা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

২. কর্পোরেট ও ফিনান্স সেক্টর (ব্যাঙ্কার ও ব্রোকার)
যাঁরা ব্যাংকিং বা ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার হার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ঘনঘন বিদেশের ট্যুর বা অফিসের পার্টি অনেক সময় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

৩. আইটি এবং টেকনোলজি
প্রযুক্তি দুনিয়ায় কাজের ধরণ অনেকটা গুমোট এবং দীর্ঘ সময়ের। সারাক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা মানুষেরা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা অফিসের ইন্টারনাল চ্যাটের মাধ্যমে নতুন কারোর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। একঘেয়েমি কাটাতে তাঁরা নতুন সম্পর্কে জড়াতে পছন্দ করেন।

৪. এভিয়েশন ও হসপিটালিটি (পাইলট ও কেবিন ক্রু)
যাঁদের কাজই হলো বাড়ি থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মানুষের সাথে মেলামেশা করা, তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার হার বেশি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। পরিবারের থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা এবং একাকীত্ব এই প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়।

৫. মিডিয়া এবং এন্টারটেইনমেন্ট
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে কাজ করা মানুষেরা সবসময় লাইমলাইটে থাকেন। শ্যুটিং বা ইভেন্টের প্রয়োজনে সহকর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে হয় এবং দীর্ঘ সময় একসাথে কাজ করতে হয়। এই অতিরিক্ত মেলামেশা অনেক সময় বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যদিকে মোড় নেয়।

কেন এমনটা ঘটে? (গবেষকদের মত)
গবেষকদের মতে, পেশা নয় বরং অতিরিক্ত কাজের চাপ (Burnout), পরিবারকে সময় দিতে না পারা এবং সহকর্মীদের সাথে অধিক সময় কাটানোই হলো এর মূল কারণ। যখন কেউ নিজের সঙ্গীর কাছ থেকে সময় পান না, তখন কর্মক্ষেত্রের মানুষটিই তাঁর সবথেকে কাছের হয়ে ওঠেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy