জিন্স হোক বা কুর্তি— অনেক সময় মহিলারা অভিযোগ করেন যে তাঁদের পোশাকে হয় পকেট নেই, আর থাকলেও তা নামমাত্র বা ছোট। অন্যদিকে পুরুষদের পোশাকে মোবাইল থেকে ওয়ালেট, সব রাখার জন্যই বড় বড় পকেট থাকে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, কেন মহিলাদের পোশাকে পকেটের এই আকাল? কেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা দশকের পর দশক ধরে পকেট এড়িয়ে চলছেন? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এর পেছনের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
কেন মহিলাদের জামায় পকেট থাকে না? এর কারণগুলো হলো:
১. সৌন্দর্যের মাপকাঠি ও শরীরের গড়ন
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের পোশাক সাধারণত শরীরের গড়নের সঙ্গে মানানসই বা ‘ফিটিং’ করে তৈরি করা হয়। পকেটে ফোন বা টাকা রাখলে পোশাকের সেই টানটান ভাব (Symmetry) নষ্ট হয়ে যায় এবং শরীরকে কিছুটা স্থূল দেখাতে পারে। এই ‘সৌন্দর্য’ বজায় রাখতেই ডিজাইনাররা পকেট বাদ দেন।
২. হ্যান্ডব্যাগ শিল্পের রমরমা
অনেকে মনে করেন এর পেছনে রয়েছে বড় ব্যবসায়িক কৌশল। যদি মহিলাদের পোশাকে সব প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার মতো বড় পকেট থাকত, তবে দামী দামী ‘হ্যান্ডব্যাগ’ বা ‘পার্স’ কেনার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যেত। তাই হ্যান্ডব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখতে পকেটকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন অনেক সমাজবিজ্ঞানী।
৩. রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইতিহাস বলছে, সতেরো শতকে মহিলাদের পোশাকে পকেট থাকত না, তারা কাপড়ের নিচে ছোট ব্যাগ ঝোলাতেন। ফরাসি বিপ্লবের পর যখন পোশাক শরীরঘেঁষা (Slim-fit) হতে শুরু করে, তখন পকেট রাখাকে ‘বিপ্লবী’ বা ‘উসকানিমূলক’ মনে করা হতো। বলা হতো, মহিলারা পকেটে গোপন ইশতেহার বা অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে পারেন। তাই লিঙ্গ বৈষম্যের কারণেও পকেট থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল তাঁদের।
৪. সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
পুরনো ধ্যানধারণা অনুযায়ী মনে করা হতো, পুরুষরা বাইরে কাজ করেন তাই তাঁদের পকেটের প্রয়োজন আছে। আর মহিলারা মূলত ঘরের কাজ বা সাজগোজ নিয়ে থাকবেন, তাই তাঁদের সব বহন করার দায়িত্ব পুরুষদের। এই বৈষম্যমূলক মানসিকতা আজও ফ্যাশন দুনিয়ায় কিছুটা রয়ে গেছে।
বর্তমান চিত্র:
তবে সময় পাল্টাচ্ছে। বর্তমানে ‘পকেট ইকুয়ালিটি’ বা পকেটে সাম্যের দাবিতে সরব হয়েছেন অনেক মহিলা। অনেক ব্র্যান্ড এখন মহিলাদের জিন্স বা কুর্তিতে কার্যকরী পকেট যোগ করছে। এমনকি বিয়ে বাড়ির লেহেঙ্গাতেও এখন পকেটের চল দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে।





