৬ মাস হলেই শিশুর খাবারে বদল! এই ৫ খাবার দিয়ে শুরু করুন ‘ওয়েনিং’, মেনে চলুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলেই মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি তার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা আবশ্যক। বিশেষত কর্মজীবী মায়েদের এ বিষয়ে খুবই সচেতন হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার খাওয়ানোর এই পর্যায়টিকে ‘ওয়েনিং’ বলা হয়। এই সময়ে মা এবং পরিবারের সবাইকে ধৈর্যশীল হতে হবে, কারণ শিশুরা হঠাৎ করে নতুন খাবার খেতে চায় না।
খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও সঠিক সময়:
টেস্ট বাড তৈরি: ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে শিশুর জিহ্বাতে ‘টেস্ট বাড’ (স্বাদ কোরক) তৈরি হতে শুরু করে, যার মাধ্যমে তারা দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে। তাই খাবার সামান্য হলেও তা যেন সুস্বাদু হয়, সেই দিকে নজর রাখতে হবে।
৬-৯ মাসের খাদ্যতালিকা (দিনে তিনবার): শিশুর প্রথম খাবার অবশ্যই শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) দিয়ে শুরু করা উচিত।
শুরুতে: নরম ভাত, আলু সেদ্ধ।
ধীরে ধীরে: হজমে সমস্যা না হলে ফল বা সবজি সেদ্ধ করে দেওয়া যেতে পারে, যেমন—আপেল, গাজর, পাকা কলা, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া সেদ্ধ, সুজি ইত্যাদি।
৯-১২ মাসের খাদ্যতালিকা (দিনে পাঁচ থেকে সাতবার): এই সময় সবজির খিচুড়ি দেওয়া খুব উপকারী। চাল, ডাল, সবজির (আলু, গাজর, পেঁপে, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, শালগম) সঙ্গে সমস্যা না হলে সামান্য সয়াবিন তেল এবং মুরগির ছোট এক টুকরা মাংস খিচুড়িতে মিশিয়ে খাওয়ান। হজমশক্তি ঠিক থাকলে সামান্য ধনেপাতা বা শাকও দেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ তাহমিনা বেগম বলেন, “শিশুকে প্রতিদিন নতুন রান্না করা খাবার খাওয়াতে হবে। ফ্রিজে রাখা বা বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না। খাবার খাওয়ানোর বাটি, চামচ ও যিনি খাওয়াবেন তার হাত অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে।”
সতর্কতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য:
নতুন খাবার দেওয়ার সময় খেয়াল রাখুন: শিশুর শরীরের কোথাও র্যাশ, বমি বা ঢেকুর, কান্নার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, বা প্রস্রাব-পায়খানায় পরিবর্তন আসছে কি না। এমন দেখলে সেই খাবার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোষ্ঠকাঠিন্য: যেসব শিশু গরু বা অন্য কোনো দুধ বেশি খায়, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এমন অবস্থায় সবজি খিচুড়ি ও জলের পরিমাণ বাড়ান। বুকের দুধ খাওয়ানোর পরও কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মায়েদের পর্যাপ্ত জল ও শাকসবজি খেতে হবে।
ডিমের কুসুম ও মধু: ডিমের কুসুম ধীরে ধীরে দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত গরমে মধু নিয়মিত না দেওয়াই ভালো। মধু দিলেও তা আধা চা-চামচ পরিমাণে, মাসে হয়তো দু’দিন।
খাওয়ানোর পদ্ধতি: শিশুকে জোর করে বা ভয় দেখিয়ে খাওয়াবেন না। খেলার ছলে খাওয়ান। মনে রাখবেন, সব শিশুর চাহিদা ও পছন্দ সমান নয়। কর্মজীবী মায়েদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের অন্যদের শিশুর খাওয়া ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজর রাখতে হবে।