শরণার্থী ও ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের জন্য সুখবর, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের

রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অধীনে সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থী এবং যারা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাদের ভাতা পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়ে এদিন স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করল রাজ্য সরকার।

কাদের ভাতা আটকাবে না? মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, সিএএ (CAA)-তে আবেদনকারী বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থী এবং যারা ফরেনার্স ট্রাইবুনালে নিজেদের নাগরিকত্বের স্বপক্ষে আবেদন করে রেখেছেন, তাদের অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে তাদের কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রকল্পের বর্তমান রূপ: তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে বিজেপি সরকার এখন একে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ হিসেবে বাস্তবায়িত করছে। শুধু নাম বদল নয়, এই প্রকল্পে ভাতার পরিমাণও দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মহিলারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, তা রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এক বড় ভূমিকা পালন করছে।

কেন এই আশ্বাসের প্রয়োজন পড়ল? রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন তালিকা যাচাই বা ‘ভেরিফিকেশন’ প্রক্রিয়ার কাজ চলায় অনেক সুবিধাভোগীর মধ্যেই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, সিএএ বা ট্রাইবুনালে আবেদন করার কারণে হয়তো তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। শরণার্থীদের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ ছিল তুঙ্গে। সেই উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন করার বিষয়টি কারো ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে না।

সরকারের বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই যোজনার মূল লক্ষ্যই হলো রাজ্যের অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের সহায়তা করা। শরণার্থীদের অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান জানিয়েই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তে অটল যে, আইনি প্রক্রিয়ায় থাকা আবেদনকারীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না।

প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংশোধিত তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং যেসব যোগ্য মহিলারা এতদিন বকেয়া ভাতার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা দ্রুত টাকা পেতে শুরু করবেন।