১৪ শাকের রহস্য! কেন ভূত চতুর্দশীতে এই বিশেষ শাক খেতে হয়? শাস্ত্রীয় কারণ না কি বিজ্ঞানের নিদান?

কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি বাড়িতে ১৪ শাক খাওয়ার রীতি বহু যুগের। মা-ঠাকুমারা এই দিন নিষ্ঠা ভরে ১৪ রকমের শাক রান্না করেন। এই প্রথা পালনের নেপথ্যে রয়েছে যেমন শাস্ত্রের নির্দেশ, তেমনই আবার লুকিয়ে আছে এক বিজ্ঞানসম্মত কারণও।
শাস্ত্রে কেন ১৪ শাক খাওয়া হয়?
শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ দিনে ১৪ শাক খাওয়ার পিছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. নরকাসুর বধ ও ভূত-প্রেত দূর: কার্তিক মাসের এই তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ বধ করেছিলেন অত্যাচারী নরকাসুরকে, তাই এই দিনটিকে নরক চতুর্দশীও বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নরকাসুররূপী রাজা প্রতি বছর এই তিথিতে অসংখ্য ভূত-প্রেত নিয়ে মর্ত্যে নেমে আসেন মা কালীর পুজো দিতে। সেই অশুভ শক্তি বা ভূত-প্রেত থেকে পরিবারকে দূরে রাখতেই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ শাক খাওয়ার রীতি তৈরি হয়েছে।
২. পূর্বপুরুষদের মুক্তি: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর দিন স্বর্গ ও নরকের দরজা খুলে যায় এবং ইহলোক থেকে আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাই এই দিনে ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের আত্মাকে পথ দেখানো হয় এবং ১৪ শাক খাওয়ার মাধ্যমে ১৪ পুরুষের আত্মাকে মুক্তি দেওয়ার নিয়ম তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞান কী বলছে?
শাস্ত্রীয় কারণ ছাড়াও ১৪ শাক খাওয়ার নেপথ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত কারণ রয়েছে। কালীপুজোর সময় সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময়কাল। শীতের আগমনকালে শরীরকে নানা ধরনের রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ শাকগুলি সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ মতে, এই শাকগুলিতে থাকা ঔষধি গুণ শরীরকে এই সময়ে সুস্থ রাখে।
তালিকা: কী কী থাকে এই ১৪ শাকে?
আঞ্চলিক ভেদে ১৪ শাকের তালিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও শাস্ত্র মতে সর্বাধিক প্রচলিত ১৪ শাকের তালিকাটি হলো:
১. ওল শাক (ওল গাছের পাতা)
২. কেঁউ বা কেমু শাক
৩. বেতো বা বেথুয়া শাক
৪. বাস্তু শাক
৫. সর্ষে শাক
৬. নিম পাতা
৭. জয়ন্তী শাক
৮. পটল পাতা বা পলতা শাক
৯. গুলঞ্চ শাক
১০. শেলুকা বা শতপুষ্পা শাক
১১. কালকাসুন্দে শাক
১২. হিলঞ্চ বা হেলেঞ্চা শাক
১৩. কুলেখাড়া শাক
১৪. শুশনি শাক
মাকে-ঠাকুমাদের হাতে তৈরি ১৪ শাক একদিকে যেমন ঐতিহ্য বহন করে, তেমনই সুস্থ থাকার এক প্রাকৃতিক উপায়ও বটে।