হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এই ১০টি খাবার

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল হার্ট বা হৃদপিণ্ড। এই অঙ্গটিকে সুস্থ রাখতে আমরা নিয়মিত হাঁটাচলা করি, ব্যায়াম করি এবং খাবার-দাবার নিয়ন্ত্রণে রাখি। তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। কোন কোন খাবার হার্টের জন্য ভালো নয়, তা জানা জরুরি। সেই খাবারগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারলেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

আসুন, হার্টের জন্য ক্ষতিকর এমন ১০টি খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১. চিংড়ি: ক্যালোরি ও ফ্যাট কম থাকলেও চিংড়িতে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে, যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাড়ে তিন আউন্স রান্না করা স্যামন মাছে যেখানে মাত্র ৬২ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, সেখানে একই পরিমাণ চিংড়ি মাছে ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাওয়া যায়।

২. লিভার, মগজ, হাড়ের মজ্জা: লিভার, মগজ ও হাড়ের মজ্জার মতো অংশে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের কলিজা, মগজ বা নেহারির মতো খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

৩. কেক, পেস্ট্রি, পুডিং, আইসক্রিম: এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। চিনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিষ্টি পানীয় রক্তচাপ বাড়ায় এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তে ক্ষতিকর ফ্যাট নিঃসরণ করে। এই দুটি কারণই হৃদরোগের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

৪. রেড মিট: খাসি, মহিষ ও হাঁসের মাংসকে রেড মিট বলা হয়। এই ধরনের মাংসের ফ্যাট বা কোলেস্টেরল হৃদরোগের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রেড মিট হজম হওয়ার পর কারনিটাইন নামক একটি যৌগ তৈরি হয়, যা ট্রিমাথাইলেমাইন এন অক্সাইড নিঃসরণ করে। এই উপাদানটি ধমনীতে ব্লক সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫. অতিরিক্ত ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার: ডিপ ফ্রাই খাবার নিঃসন্দেহে সুস্বাদু, তবে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ভাজার প্রক্রিয়ায় খাবারের খাদ্যগুণ কমে যায় এবং ক্ষতিকারক ফ্যাট যোগ হয়। মাংস বা অন্য কিছু ভাজার সময় তেলে বুদবুদ উঠতে দেখা যায়, যা খাবারের ভেতরের জল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে হয়। যখন পুরো জল শুকিয়ে যায়, তখন খাবারের মধ্যে তেল প্রবেশ করে। এমনিতেই মাংস বা এই জাতীয় খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, তার ওপর তেল যোগ হওয়ায় ফ্যাটের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

৬. নারকেল: হংকং ও সিঙ্গাপুরের দুটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হংকংয়ের তুলনায় সিঙ্গাপুরে তিনগুণ বেশি মানুষ মারা যায়। গবেষকদের মতে, এর একটি প্রধান কারণ হল সিঙ্গাপুরের বাসিন্দাদের খাবারে নারকেল ও পাম তেল ব্যবহার করা। নারকেল তেলের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হৃদরোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৭. ঘি-মাখন-ডালডা: প্রাচ্যের অনেক মুখরোচক খাবারে ঘি ও মাখন ব্যবহার করা হয়, তবে এগুলোতে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী ওয়াহিদা কর্মালীর মতে, এতে পালমিটিক অ্যাসিডও থাকে, যা ধমনীতে ব্লকের কারণ হতে পারে। এর পরিবর্তে অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল বা মার্জারিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৮. ডিমের কুসুম: ডিমের সাদা অংশ খাওয়া গেলেও হৃদরোগীদের জন্য ডিমের কুসুম এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে। একটি বড় মুরগির ডিমে প্রায় ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যার পুরোটাই কুসুমে বিদ্যমান। একজন হৃদরোগীর দিনে ২০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল গ্রহণ করা উচিত নয়।

৯. ফাস্টফুড: বার্গার, পিজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন—এগুলো সবই ফাস্টফুডের অন্তর্ভুক্ত। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে একবার ফাস্ট ফুড খায়, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। যারা সপ্তাহে দুই-তিনবার খায়, তাদের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং যারা সপ্তাহে চার বা তার বেশি বার খায়, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ৮০ শতাংশের বেশি।

১০. মাছের মাথা ও ডিম: মাছের মাথা ও ডিমে এমন উপাদান থাকে যা রক্তের লিপিড প্রোফাইল বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি করে