সঙ্গীর দেরিতে মেজাজ খারাপ? রইল সামলানোর ৩টি জরুরি টিপস

এমন অনেকেই আছেন যাদের সঙ্গী সময় মেনে চলতে পারেন না। কোথাও একসঙ্গে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে, আপনি যখন ঘড়ি ধরে তৈরি, তখন হয়তো তিনি রাস্তায় আটকে, নয়তো ঘর থেকে বলছেন “এই তো হয়ে গেছে!” – কিন্তু বাস্তবে দেখা মেলে আধ ঘণ্টা পর। এই অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, তাদের পরবর্তী অশান্তিটাও অজানা নয়।
বন্ধুর দেরি নিয়ে বিরক্তি, রাগ, প্রেমিক-প্রেমিকার অভিমান, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু এতে কি পরের বার পরিস্থিতি বদলায়? মনোবিদরা বলছেন, সাধারণত বদলায় না। বরং একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং তার জেরে অশান্তি বন্ধুত্ব, প্রেম বা দাম্পত্যের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উল্টো দিকের সময়ানুবর্তী মানুষটি তিনটি সহজ পরামর্শ মেনে চললে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন।
১. সঙ্গীর পরিকল্পনার গলদ, আপনার কিছু করার নেই:
আপনি সঙ্গীর সময়ের মর্যাদা দেন বলেই সময়মতো প্রস্তুত হন। কিন্তু তার দেরির অর্থ এই নয় যে তিনি আপনাকে গুরুত্ব দেন না। আপনার মনে হতে পারে আপনার সময়ের বা চেষ্টার কোনো মূল্য নেই। বিশেষত আপনি সময়নিষ্ঠ হলে এমন ভাবনা আসা স্বাভাবিক। তবে মনোবিদরা বলছেন, এর কারণ সঙ্গীর ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা হতে পারে। হয়তো তিনি বেরোতে পছন্দ করেন না (এডিএইচডি নামক মানসিক সমস্যা থাকতে পারে), অথবা গুছিয়ে কাজ করতে পারেন না বা সাংসারিক চাপে দেরি হয়। দেরির কারণ অনেক থাকতে পারে। এর মানে এই নয় যে তিনি আপনার সময়ের মূল্য দিচ্ছেন না। হয়তো তিনি নিজের সমস্যা সামলে আপনার সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব বোঝার সময় পান না।
মনোবিদদের পরামর্শ, এক্ষেত্রে আপনাকেই নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। তারা বলছেন, “অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা পরিস্থিতিকে যেভাবে দেখি, সেভাবেই সামলাতে পারি। সঙ্গীর দেরি নিয়ে নিজের মনোভাব বদলানোর চেষ্টা করুন। বুঝুন দেরির কারণ আপনাকে গুরুত্ব না দেওয়া নয়। এতে আপনার মানসিক চাপ কমবে এবং সঙ্গীকে অপ্রিয় কথা বলাও এড়াতে পারবেন।”
২. নিজের প্রয়োজনের কথা জানান, তবে যত্নের সাথে:
সঙ্গীর দেরিতে আপনার খারাপ লাগা, বিরক্তি বা রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তবে কীভাবে জানাচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদরা বলছেন, “ব্যক্তিগত আক্রমণ কেউ পছন্দ করে না। তাই সঙ্গীর আচরণ নিয়ে কথা বলতে চাইলে শান্তভাবে জানান দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে আপনার কেমন লাগে এবং আপনি কী চান। যুক্তি দিয়ে কথা বললে চিৎকার-চেঁচামেচির ঝুঁকি কমবে এবং অশান্তি এড়ানো যাবে।”
চিকিৎসকরা বলছেন, আপনি এভাবে বলতে পারেন, “আমি দেখেছি যখনই আমাদের একসঙ্গে বেরোনোর থাকে, তোমার প্রায়ই দেরি হয়। আর যখন দেরি হয়, তখন আমার খারাপ লাগে। আমার মনে হয়, তোমার কাছে আমার সময়ের কোনো গুরুত্ব নেই।” মনোবিদদের পরামর্শ, এতে দুর্বলতা প্রকাশ পেলেও নিজের অনুভূতি চেপে রাখবেন না। যদি মনে হয় সঙ্গীর দেরি আপনার সম্পর্ককে অসম্মান করছে, তবে সেটাও জানান। তবে সবসময় মনে রাখবেন দোষারোপ না করে শুধু নিজের অনুভূতির কথা বলুন।
৩. ঠিক সময়ে এলে সঙ্গীকে উৎসাহিত করুন:
এরপরও দেরি হলে ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখবেন, দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে সময় লাগে। সঙ্গীকে সেই সময় দিন। তাই প্রতিবার দেরির কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বদলে, কোনোদিন তিনি ঠিক সময়ে এলে তার প্রশংসা করুন এবং উৎসাহ দিন।