শৈশব থেকেই সন্তানকে বুদ্ধিমান ও চটপটে করে তোলার সহজ উপায়

সন্তানের জন্মের পর প্রতিটি বাবা-মায়ের প্রধান লক্ষ্য থাকে তাকে সঠিকভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বড় করে তোলা। তবে অনেক সময় কিছু ত্রুটির কারণে সন্তান পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে পারে না। অথচ শৈশবের কয়েকটি সহজ অভ্যাস রপ্ত করানোর মাধ্যমেই সন্তানকে বুদ্ধিদীপ্ত এবং চৌকস করে তোলা সম্ভব। আসুন, সেই উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-

টেলিভিশন থেকে দূরে রাখুন: সন্তানের সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য তাকে যতটা সম্ভব টেলিভিশন থেকে দূরে রাখা উচিত। শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুরা টেলিভিশন দেখতে পছন্দ করে বলে অনেক অভিভাবকই তাদের সেই দিকে ঠেলে দেন। কিন্তু টেলিভিশনের চেয়ে ছড়া বা গল্পের বই তাদের মনে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। এটি তাদের কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি করে এবং নতুন শব্দ শিখতে সাহায্য করে।

সঙ্গ দিন: চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা-মায়ের সঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে সক্রিয় ও চটপটে করে তুলতে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ান এবং তাকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ছোটবেলা থেকেই খেলার ছলে মজার ছড়া, নামতা, প্রচলিত গল্প ও গান শোনাতে থাকুন। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়।

দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ান: মাতৃদুগ্ধ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের মূল চাবিকাঠি। তাই জন্মের পরপরই শিশুকে শাল দুধ খাওয়ান। এছাড়াও অন্তত দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ তার খাদ্যতালিকায় প্রথম সারিতে রাখুন। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

মাঝে মাঝে গান শোনান: দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় শিশুকে হালকা গান শোনানো উচিত। যেকোনো শান্ত গান শিশুর হাইপোথ্যালামাসকে শান্ত করে এবং তাকে ভাবুক করে তোলে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, গান শিশুর মনোযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে গান অথবা বাদ্যযন্ত্রের তালিম দেওয়া উচিত। এটি তার সৃজনশীলতাকেও বৃদ্ধি করে।

দাবা খেলায় আগ্রহী করে তুলুন: সন্তানের আগ্রহ থাকলে চার বছর বয়স থেকেই তাকে দাবা খেলা শেখানো যেতে পারে। দাবা এমন একটি খেলা যা শিখতে হলে ধীরস্থির ও বুদ্ধিমান হতে হয়। এই খেলার সংস্পর্শে এলে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং একাগ্রতা বাড়ে।

নতুন নতুন শব্দ সংগ্রহে আগ্রহী করে তুলুন: ছোটবেলা থেকেই সন্তানের শব্দ ভান্ডার বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার প্রতিও তার আগ্রহ তৈরি করুন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড বুক ব্যবহার করা যেতে পারে। পড়তে শেখার আগে আপনি নিজে সঠিক উচ্চারণে সেই শব্দগুলো তার সামনে পড়ুন। এটি শিশুকে নতুন শব্দ শিখতে উৎসাহিত করবে।

প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে দিন: শিশুর বিকাশে তার চারপাশের প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ ছাড়াও গাছপালা ও পশু-পাখির সঙ্গে তাকে মিশতে দিন। বাড়িতে পোষ্য না থাকলেও সন্তানকে নির্ভয়ে চারপাশের পশু-পাখির সঙ্গে মেশার সুযোগ দিন। পশু-পাখিদের প্রতি মমত্ববোধ এবং তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করা তাকে সুন্দর মনের অধিকারী করে তুলবে।

উপকারী হতে শেখান: সন্তানকে আত্মকেন্দ্রিক না করে ছোটবেলা থেকেই পরোপকারী হতে শেখান। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব সকলের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করুন। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই তার আদর্শ হতে পারেন। নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করার সুফল ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখান। এটি শিশুকে সহজেই বড় মনের মানুষ করে তুলবে।