শীতের বাজারে সবুজ বিপ্লব! কাঁচা টমেটোতেই লুকিয়ে স্বাস্থ্য ও রূপের চাবিকাঠি

শীতের আগমন মানেই বাজারে রংবেরঙের শাকসবজির মেলা। লাল টমেটোর পাশাপাশি এখন সহজেই চোখে পড়ছে কাঁচা, সবুজ টমেটোও। শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতেই নয়, স্বাস্থ্যগুণেও লাল টমেটোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এই সবুজ টমেটো।

অনেকেই হয়তো জানেন না, কাঁচা টমেটো শরীরের জন্য কতটা উপকারী। লাল টমেটোর মতো এটিও যেমন রান্নায় ব্যবহার করা যায়, তেমনই সালাদেও যোগ করে উপভোগ করা যেতে পারে এর ভিন্ন স্বাদ।

পুষ্টিগুণে ভরপুর এই কাঁচা টমেটো। এক কাপ বা প্রায় ২৪০ গ্রাম কাঁচা টমেটোতে প্রায় ১৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে এবং ৪৫ মিলিগ্রামের কাছাকাছি খনিজ ফসফেট থাকে। এই দুটি উপাদান বাতের ব্যথা কমাতে এবং হাড় ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুধু তাই নয়, কাঁচা টমেটো ভিটামিন সি ও ই-এরও একটি চমৎকার উৎস। আর পাকা ও কাঁচা উভয় ধরনের টমেটোতেই প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। তবে সবুজ টমেটোর বিশেষত্ব হল এতে লাল টমেটোর চেয়েও বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এই কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি পাওয়ার) বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত সহায়ক।

ভিটামিন সি হাড়, দাঁত, মাড়ি এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সর্দি-কাশির মতো সাধারণ রোগগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, টমেটোয় বিদ্যমান লাইকোপেন প্রস্টেট, কলোরেকটাল ও পেটের ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়ক হতে পারে।

কাঁচা টমেটোয় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায় – কিউমেরিক ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। এই উপাদান দুটি কার্সিনোজেনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে, ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

এমনকি যারা ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের জন্যও কাঁচা টমেটো একটি আশার আলো দেখাতে পারে। নিয়মিত কাঁচা টমেটো খেলে ধূমপানের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই শীতের বাজারে যখন হাতের কাছেই মিলছে এই সবুজ বন্ধু, তখন তাকে অবহেলা না করে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। স্বাস্থ্য আর রূপ – দুটোই থাকবে আপনার হাতের মুঠোয়!