রাতে চুল বেঁধে ঘুমানোর অভ্যাসেই বাড়ছে টাক পড়ার ঝুঁকি!

রাতে ঘুমানোর সময় চুলের যত্ন নেওয়া একটি স্বাভাবিক অভ্যাস। চুলের ডগা ফেটে যাওয়া থেকে বাঁচাতে অনেকেই বেণী করে বা খোঁপা বেঁধে ঘুমান। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, রাতে চুল বেঁধে ঘুমানোর এই অভ্যাসটিই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ – টাক পড়া!

নতুন এক গবেষণা অনুসারে, চুল বেঁধে ঘুমানোর ফলে মাথার ত্বকের উপর একটানা টান পড়ে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। গবেষণায় উঠে এসেছে, টাক পড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাতে শক্ত করে চুল বেঁধে শোয়ার অভ্যাস।

চুল বেঁধে ঘুমালে যে ক্ষতি হতে পারে:

যাদের ইতিমধ্যেই চুল পড়ার সমস্যা বেড়েছে বা মাথার কিছু অংশে টাক দেখা দিতে শুরু করেছে, তাদের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এখন থেকেই চুল খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

গবেষণা আরও বলছে, রাতে চুল খোলা রেখে ঘুমালে ধীরে ধীরে নতুন চুল গজাতে শুরু করতে পারে। তবে যদি চুল খোলা রেখে ঘুমাতে অস্বস্তি বোধ হয়, তাহলে আলগা করে একটি বেণী করে নিতে পারেন।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, চুল বাঁধা যেন কোনোভাবেই টাইট না হয়। অতিরিক্ত টাইট করে চুল বাঁধলে স্ক্যাল্পের উপর আরও বেশি চাপ পড়ে এবং চুল পড়ার হার বাড়ে। এর পাশাপাশি, ভেজা চুলে কখনোই ঘুমানো উচিত নয়। চুল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়ার পরেই ঘুমাতে যাওয়া উচিত।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বালিশের কভারে সিল্কের কাপড় ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সিল্কের মসৃণতা চুলের ঘর্ষণ কমায়, ফলে চুল ওঠা এবং চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। এছাড়াও, নিয়মিত বালিশের কভার পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে জীবাণু সংক্রমণ থেকে চুল রক্ষা পায়।

তাই, সুন্দর ও ঘন চুল ধরে রাখতে আজ থেকেই রাতে চুল না বেঁধে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। যদি বাঁধতেই হয়, তবে আলগা করে বেণী করে শুতে পারেন এবং অবশ্যই খেয়াল রাখবেন চুল যেন শুকনো থাকে। আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনার চুলকে রক্ষা করতে পারে টাক পড়ার হাত থেকে।