দুশ্চিন্তা! না চাইতেও সঙ্গী, ডেকে আনতে পারে মারাত্মক রোগ

দুশ্চিন্তা যেন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি দুশ্চিন্তা শেষ না হতেই আরেকটি এসে হাজির হয়। আর একবার একে প্রশ্রয় দিলে তা ধীরে ধীরে আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা প্রায় অসম্ভব। আশেপাশে কারও হাঁচি-কাশি শুনলেও মনে আতঙ্ক জাগে, না জানি করোনা! নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য নানা রকম চিন্তা এসে ভিড় করে মনে। তবে এই দুশ্চিন্তাই কিন্তু ডেকে আনতে পারে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। এমনটাই উঠে এসেছে আনন্দবাজার পত্রিকার এক বিশেষ প্রতিবেদনে।

দুশ্চিন্তা বাড়লে শরীরে যা হতে পারে:

ওজন বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক রোগ: দুশ্চিন্তা বাড়লে অনেকেই অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, অলস জীবনযাপন করেন অথবা নেশার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি পায়। ওজন বাড়লে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, হৃদরোগ ও গেঁটে বাতের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

মানসিক চাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: মানসিক চাপের সরাসরি যোগ রয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সঙ্গে। অনিদ্রা ও খিটখিটে মেজাজও মানসিক চাপের ফল। এসব কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।

পেটের সমস্যা: দুশ্চিন্তার কারণে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক ও বদহজম দেখা দিতে পারে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব: মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের অনিয়মিত হওয়ার অন্যতম কারণ এই দুশ্চিন্তা।

দুশ্চিন্তা কমাতে যা করবেন:

নতুন স্বাভাবিকতাকে মেনে নিন: বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর নতুন অভ্যাসগুলোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিন। যত দ্রুত ‘নিউ নর্মাল জীবন’কে গ্রহণ করতে পারবেন, ততই মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।

মনকে হালকা রাখুন: মনের উপর চাপ পড়তে দেবেন না। গান শোনা, বই পড়া, সিনেমা দেখা অথবা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে মনকে সতেজ রাখার চেষ্টা করুন।

খবর দেখা নিয়ন্ত্রণ করুন: সারাক্ষণ খবর বা সিরিয়াস টক শো না দেখে কমেডি অনুষ্ঠান বা কার্টুন দেখতে পারেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা স্থুলতার সমস্যা থাকলে নিয়ম মেনে হালকা ব্যায়াম করুন।

খাবার নিয়ন্ত্রণে আনুন: যখন তখন যা খুশি খাবেন না। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে খাবারের বিষয়ে সচেতন হন। অতিরিক্ত লবণ, ভাজাভুজি ও মিষ্টি খাবার ত্যাগ করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম: ভালো ঘুম দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়ক। তবে দুশ্চিন্তা কমাতে ঘন ঘন চা, কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস পান করা উচিত নয়, কারণ এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলার পরেও যদি দুশ্চিন্তা না কমে, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সমস্যা আরও বাড়াবেন না।

মনে রাখবেন, দুশ্চিন্তা একটি স্বাভাবিক অনুভূতি হলেও, এর অতিরিক্ত প্রভাব শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সচেতন থাকুন এবং দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন মনে হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।