মেনোপজ: জানুন এবং সুস্থ থাকুন

সাধারণত নারীদের জীবনে ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা মেনোপজ নামে পরিচিত। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয় বা জরায়ু অপসারণ অথবা রোগের কারণে ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা হ্রাস পেলে (প্রিম্যাচিউর ওভারি ফেইলিউর), স্বাভাবিক সময়ের আগেই মেনোপজ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, মেনোপজের কয়েক বছর আগে থেকেই নারীদের শরীরে হাড়ক্ষয় শুরু হতে পারে। এই সময়ে শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৮০০ ইউনিট ভিটামিন ডি গ্রহণ করা জরুরি।

এই চাহিদা পূরণের জন্য চিকিৎসকরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, বিভিন্ন প্রকার বাদাম (যেমন কাঁচা বাদাম ও আখরোট) এবং কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।

এছাড়াও, মেনোপজের সময় অনেক নারী বিষণ্নতা ও অস্থিরতায় ভুগতে পারেন। এই সমস্যা কমাতে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমন বিভিন্ন প্রকার বীজ ও সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সেলেনিয়াম। কলিজা, টুনা মাছ, টমেটো, পেঁয়াজ, ব্রকলি ও রসুনের মতো খাবারে প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়, যা খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত।

মেনোপজের সময় অনেক নারীর চুল পড়া এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য হারানোর মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সয়াবিন, বাদাম, অঙ্কুরিত সবজি এবং ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

লাইভস্টং-এর তথ্য অনুযায়ী, মেনোপজের পর খাদ্যতালিকায় চিনি ও লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনা উচিত। অতিরিক্ত চিনি কেবল ওজনই বাড়ায় না, ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপন এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মেনোপজের পর সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।