বিয়ে না করলে বাড়তে পারে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি! গবেষণা বলছে, অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিত ক্যানসার রোগীরা বেশি দিন বাঁচেন

বিয়ে নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে—কারও কাছে এটি ‘ফ্যান্টাসি’, কারও কাছে আবার ‘ভেজাল’। তবে ‘মতিচুরের লাড্ডু’র গল্পের মতো, এখন গবেষণা জানাচ্ছে, বিয়ে না করলে পস্তানোর বিষয়টাই বেশি। কারণ, এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
গবেষণা কী বলছে? 🩺
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ইনভেস্টিগেটিভ জার্নাল’-এর এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার মূল বিষয়বস্তু হলো:
ক্যানসারের ঝুঁকি: যারা অবিবাহিত বা যাদের জীবনসঙ্গী নেই, তাদের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারে (Gastric Cancer) মৃত্যু হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
দীর্ঘায়ু: নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, বিবাহিত হলে ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘায়ু পেতে সাহায্য হতে পারে।
এই গবেষণাটি ৩,০০০ গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে করা হয়েছিল, যাদের প্রত্যেকেই ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।
বিবাহিতদের দীর্ঘায়ুর কারণ
চীনা বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার ধরা পড়ার পর ৭২ শতাংশ বিবাহিত পুরুষ ও মহিলার অবিবাহিতদের তুলনায় পাঁচ বছর বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের মতে, এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:
১. উন্নত যত্ন ও স্বাস্থ্যকর আচরণ: জীবনসঙ্গী পাশে থাকলে তিনি আপনার খেয়াল রাখতে পারেন। অসুখ হলে সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো এবং অন্যান্য সেবা জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে পাওয়া সহজ। ফলে রোগীর জন্য স্বাস্থ্যকর আচরণ মেনে চলা এবং রোগের প্রতি মনোযোগী হওয়া সহজ হয়, যা দীর্ঘায়ু হওয়ার জন্য জরুরি। ২. রোগের দ্রুত নির্ণয়: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা বিবাহিত তাদের ক্ষেত্রে রোগ আগেই ধরা পড়েছে, তাই চিকিৎসা পদ্ধতিও দ্রুত চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বিবাহিতদের সুস্থতার হারও বেশি। ৩. আর্থিক ও মানসিক সহায়তা: বিবাহিতরা আর্থিক ও মানসিক—দুই ক্ষেত্রেই রোগের সঙ্গে লড়াই করার বেশি সামর্থ্য রাখে। ৪. অযত্নের ঝুঁকি: যারা অবিবাহিত বা একা থাকেন, তারা শরীরে কোনো রকম সমস্যা হলে ততটাও গুরুত্ব দেন না। সাধারণ ভাবেই শরীরের প্রতি অযত্ন এর পিছনে বড় কারণ।
গবেষণায় আরও ধরা পড়েছে যে, যাদের স্বামী কিংবা স্ত্রী মারা গিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকির হার অনেকটাই বেশি থাকে।