ঘুম থেকে ওঠার জন্য অ্যালার্মের ওপর নির্ভরতা এখন এক স্বাভাবিক চিত্র। ঘড়ি বা মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম সেট করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন অনেকেই। সময়মতো ঘুম ভাঙাতে অ্যালার্মের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু এই প্রতিদিনের অ্যালার্মের শব্দ কি আমাদের শরীরের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে? সাম্প্রতিক গবেষণা কিন্তু এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাপত্রে ঘুম ভাঙার প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যারা বছরের পর বছর ধরে অ্যালার্মের শব্দ শুনে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালার্মে ঘুম ভাঙার ৫টি মারাত্মক প্রভাব:
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি: সমীক্ষা বলছে, অ্যালার্মের শব্দে যাদের ঘুম ভাঙে, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম না হলেই এই সমস্যা বাড়ে। অ্যালার্মের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয় না, যা ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে।
হৃদরোগের আশঙ্কা: প্রতিদিন অ্যালার্মের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়। কারণ হঠাৎ করে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলে শরীরে অ্যাড্রিন্যালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অবসাদ: নিয়মিত অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়, যা অবসাদের কারণ হতে পারে। ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হওয়ায় মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস: ঘুমের মধ্যে অ্যালার্মের শব্দ কানে এলে আচমকা ঘুম ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন এমন হতে থাকলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ঘুমের সময় মানুষ যখন হঠাৎ জেগে ওঠে, তখন তাদের স্মৃতিশক্তি, জ্ঞানীয় ক্ষমতা এমনকি গণনার দক্ষতাও কমে যায়।
হজমজনিত সমস্যা: এছাড়াও, অ্যালার্মের শব্দে হঠাৎ করে ঘুম ভাঙলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যাসিডিটির সমস্যাও বাড়তে পারে। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেলথ দ্বারা পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারীরা হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন, তাদের রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।





