মুখের ভেতরের এই লক্ষণগুলি হতে পারে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত! সতর্ক হোন এখনই

আমাদের দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এই দীর্ঘস্থায়ী রোগটি চোখ, স্নায়ু, হার্ট এবং কিডনিসহ শরীরের প্রায় প্রতিটি অংশে আঘাত হানতে পারে। যদিও বেশিরভাগ মানুষই এখন এই রোগের সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন, তবে অনেকের ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না, ফলে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ক্ষুধা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বিরক্তি এবং ক্লান্তি হলো ডায়াবেটিসের কিছু পরিচিত লক্ষণ।
তবে ডায়াবেটিসের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে যা এই রোগকে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কি আপনার মুখের ভেতরটা শুষ্ক মনে হয়? এটি ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর ইঙ্গিত হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে মুখে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা দাঁত এবং মাড়ির রোগের কারণও হতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মুখের যেসব সমস্যা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে:
ডায়াবেটিসের কিছু মুখ-সম্পর্কিত লক্ষণ:
শুষ্ক মুখের ভেতরের শুষ্কতা (জেরোস্টোমিয়া): এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি, যা জেরোস্টোমিয়া নামে পরিচিত। মুখে লালা কমে যাওয়ার কারণ ডায়াবেটিস হতে পারে, যা আপনাকে খিটখিটে এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণার্ত করে তুলতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা ব্যথা, আলসার, সংক্রমণ এবং দাঁতের ক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
মাড়ির রোগ: ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় কি আপনার দাঁত বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে? এটি মাড়ির রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে আপনার মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে, যা জিংগাইটিস নামে পরিচিত। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি পিরিয়ডোনটাইটিস নামে আরও গুরুতর সংক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দাঁতের নরম টিস্যু এবং হাড়কে ধ্বংস করে দেয়।
দাঁত ক্ষয়: রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা দাঁতের ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। মুখে অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে; সেগুলো শর্করা এবং স্টার্চের সাথে মিশে প্ল্যাক তৈরি করে। প্ল্যাকের অ্যাসিড আপনার এনামেলকে আক্রমণ করে, ফলে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ হতে পারে। দাঁত ক্ষয়ের চিকিৎসা না করা হলে তা ব্যথা এবং সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
থ্রাশ (ক্যানডিডিয়াসিস): এটি একটি ছত্রাক সংক্রমণ, যা ওরাল থ্রাশ বা ক্যানডিডিয়াসিস নামেও পরিচিত। থ্রাশের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে মুখ, জিহ্বা, মাড়ি, গাল এবং মুখের ভেতরে সাদা ও লাল দাগ। এগুলো ঘা আকারেও দেখা দিতে পারে। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আরও কিছু যত্ন নিলে থ্রাশ এড়ানো যেতে পারে।
মুখ এবং জিহ্বায় জ্বালাপোড়া: মুখ এবং জিহ্বায় জ্বালাপোড়া একটি কঠিন এবং কষ্টদায়ক অবস্থা। রক্তে শর্করার অনিয়ন্ত্রিত মাত্রার কারণে মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়, যা শুষ্ক মুখ এবং তেতো স্বাদেরও কারণ হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।