“১ বছরে ১৩ হাজারেরও বেশি সরকারি শিক্ষক কমল দেশে!”-সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল কেন্দ্র

দেশের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংখ্যা নিয়ে সম্প্রতি সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী সংসদে লিখিত জবাবে জানিয়েছেন যে, জাতীয় স্তরে গত এক বছরে দেশের সরকারি স্কুলের শিক্ষকের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি হ্রাস পেয়েছে। উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে সরকারি শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, বিহার, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মতো কিছু রাজ্যে তা আবার বৃদ্ধিও পেয়েছে।
সরকারি শিক্ষক হ্রাসের পরিসংখ্যান এক নজরে
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিগত তিন বছরে দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংখ্যার গ্রাফ নিম্নরূপ:
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ: সারা দেশে সরকারি শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৫০,৩৭,৬৭১ জন।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ: এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৫১,৪৯,৭৭১ জন।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ: তা পুনরায় কমে দাঁড়িয়েছে ৫১,৩৪,৬২৩ জনে। অর্থাৎ শেষ এক বছরে এক ধাক্কায় ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষক কমেছে।
উত্তর প্রদেশে ঠিক কী পরিস্থিতি?
সবচেয়ে বেশি জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশেও গত তিন বছরে সরকারি শিক্ষকের সংখ্যা কমেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে উত্তর প্রদেশে শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৬,৩০,০৭৫ জন, যা পরের বছর সামান্য বাড়লেও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ৬,২৭,১২৪ জনে। অর্থাৎ গত তিন বছরে উত্তর প্রদেশ প্রায় ৩,০০০-এর বেশি শিক্ষক হারিয়েছে।
এছাড়া ছত্তিশগড়, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড এবং তামিলনাড়ুতেও একই রকম হ্রাসের চিত্র দেখা গেছে। উল্টোদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও রাজস্থানে শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষক হ্রাসের নেপথ্যে কী কারণ জানাল কেন্দ্র?
সংসদে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী জানান যে, শিক্ষা বিষয়টি সংবিধানের যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতেই থাকে। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও চাকরির শর্তাবলী পুরোপুরি রাজ্যগুলির এখতিয়ারভুক্ত।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মূলত অবসর গ্রহণ, পদত্যাগ, নতুন বিদ্যালয় খোলা এবং ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নিয়মিতভাবে শূন্যপদের সৃষ্টি হয়। তবে শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা রাজ্যগুলি নিজেদের নিয়ম ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালনা করে থাকে।
ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (PTR) কত?
জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়ে আদর্শ ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (PTR) ৩০:১-এর কম এবং আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর এলাকায় ২৫:১-এর কম রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইউডিআইএসই+ (UDISE+) ২০২৫-২৬ এর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে জাতীয় স্তরের পিটিআর হলো—
প্রাথমিক পর্যায়ে: ১০
প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে: ১২
মধ্য পর্যায়ে: ১৭
মাধ্যমিক পর্যায়ে: ২১