পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যেসব খাবার, সতর্ক না হলেই বিপদ!

বিশ্বজুড়ে সন্তানহীন দম্পতির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা এখন নারীদের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের কিছু ভুল এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান বা শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট খাবার পুরুষের শুক্রাণুর গুণগত মান মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত মাংস (Processed Meat) শুক্রাণুর সংখ্যা কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ। সালামি, হটডগ, বার্গার এবং বেকনের মতো খাবারে এই ধরনের মাংস ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রেড মিট খেলে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ে। যদিও মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে এমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দুগ্ধজাত খাবার। গবাদি পশুদের প্রায়শই স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যার প্রভাব দুধের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী পুরুষদের উপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ ধরনের দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য নিয়মিত গ্রহণ করলে শুক্রাণুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এছাড়াও, ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড (Trans Fatty Acid) শুক্রাণুর স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে। এই ক্ষতিকর ফ্যাট হৃদরোগের কারণ হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এটি বন্ধ্যাত্বের জন্যও দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে। সবকিছুর পাশাপাশি, বিভিন্ন খাবারে মিশে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলোও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে, যা এড়িয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।

এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।