পরকীয়া কেন হয়? দাম্পত্যে লুকিয়ে থাকা এই কারণগুলো জানলে অবাক হবেন!

পরকীয়ার সমস্যা আজ বিশ্বজুড়ে একটি উদ্বেগের কারণ। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ, প্রায় সকলের মধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সমাজের চোখে পরকীয়া নিন্দনীয় হলেও, এর পেছনের ব্যক্তিগত কারণগুলো অনেকেরই অজানা। আসুন, জেনে নেওয়া যাক কোন পরিস্থিতিতে মানুষ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন:

>> অল্প বয়সে বিয়ে: অনেকেরই খুব কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, ফলে সংসারের দায়িত্ব অল্প বয়সেই কাঁধে এসে পড়ে। জীবনের অনেক আনন্দ এবং ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আসার আগেই তারা বিবাহিত জীবন শুরু করেন। তাই একটা সময়ের পর, যখন জীবনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য আসে, তখন অনেকেই পরকীয়া প্রেমের স্বাদ নিতে চান, যা তাদের তারুণ্যের সেই অধরা আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে।

>> কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা: জীবনে অপ্রত্যাশিত কঠিন পরিস্থিতি এলে, যেমন পরিবারের কারো গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্যু, চাকরি হারানো বা আর্থিক সংকট, অনেকে মানসিক শান্তির খোঁজে পরিবারের বাইরের কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সহানুভূতি ও সহানুভূতির প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় বিবাহিত সঙ্গীর কাছ থেকে না পাওয়ায় অন্য কারো কাছে মুক্তির পথ খোঁজা হয়।

>> অপছন্দের বিয়ে: অনেক সময় অভিভাবকের চাপে পড়ে বা সামাজিক প্রথার কারণে অপছন্দের পাত্র বা পাত্রীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন অনেকে। বিয়ের পর যখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন, তখন সমমনস্ক কারো সাথে হঠাৎ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়।

>> জীবনের গুরুত্বের অমিল: বিয়ের আগে বা বিয়ের সময় অনেকেই নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন না। একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একে অপরের জীবনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং গুরুত্ব অনুধাবন করা জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ভিন্ন হওয়ায় দাম্পত্য কলহ শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে সঙ্গীকে পরকীয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

>> মেরু-বিপরীত ব্যক্তিত্ব: সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু অমিল থাকা স্বাভাবিক, এবং মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই সম্পর্ক সুন্দর থাকে। তবে যদি দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর মানুষ হন, যাদের মধ্যে কোনো বিষয়েই মিল নেই, সেক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই অভিযোগ করেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছুই মেলে না’। এই দূরত্ব বাড়তে থাকলে সঙ্গী পরকীয়ায় ঝুঁকতে পারেন।

>> যৌন অতৃপ্তি: পরকীয়া সম্পর্কের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বৈবাহিক জীবনে যৌন অতৃপ্তি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়ার পেছনে এই গভীর অভাববোধ কাজ করে। শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ না হওয়ায় অনেকে বাইরের সম্পর্কে আকৃষ্ট হন।

>> সম্পর্কের একঘেয়েমি ও উত্তেজনার অভাব: দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় উত্তেজনা কমে যায় এবং সম্পর্ক একঘেয়ে হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের রুটিনের বাইরে অনেকেই নতুনত্বের স্বাদ ও উত্তেজনা খুঁজে নিতে চান। স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে বড় কোনো সমস্যা না থাকলেও, শুধু এই একঘেয়েমি কাটাতে অনেকে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

পরকীয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, তবে এর পেছনের এই কারণগুলো দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা এবং মানুষের ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের একটি দিক তুলে ধরে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরের চাহিদা ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং নিয়মিতভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও বোঝাপড়া বজায় রাখা।