নতুন পরিবেশে স্বকীয়তা ঠিক রেখে কীভাবে শ্বশুরবাড়িকে আপন করে নেবেন? স্বামীর কৌশল ও নতুন বউয়ের ৭ করণীয়

বিয়ে কেবল দুজন নারী-পুরুষের দাম্পত্য জীবন নয়, এ ক্ষেত্রে যুক্ত হয় দুটি ভিন্ন পরিবার, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাপন। নিজের পরিবার ছেড়ে আসার কষ্ট সামলাতে না-সামলাতেই শ্বশুরবাড়ির অচেনা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয় অধিকাংশ মেয়েকে। বিয়ে-পরবর্তী এই নাজুক সময়টাতে কীভাবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া যাবে, তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবন।

একটি বহুল প্রচলিত বিতর্ক হলো: বউয়ের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের দায়ভার কার বেশি? আসলে যেকোনো সম্পর্কই পারস্পরিক আস্থার ওপর গড়ে ওঠে। তাই নতুন বউয়ের যেমন দায়িত্ব থাকে, তেমনি সমান দায়িত্ব বর্তায় শ্বশুরবাড়ির। তবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব থাকে স্বামীর। স্ত্রীর সঙ্গে বাড়ির একটি সুন্দর সম্পর্ক তৈরিতে স্বামীর বলিষ্ঠ ও কৌশলী ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


নতুন বউয়ের জন্য স্বকীয়তা ঠিক রাখার ৭টি করণীয়:

 

১. মানসিক প্রস্তুতি নিন: শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার আগেই মাথায় রাখুন যে সেখানকার পরিবেশ আপনার এত দিনের চেনা পরিবারের মতো হবে না। তাদের আচার-আচরণ, খাবারদাবার ও জীবনযাপনের ধরন আপনার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। আগে থেকেই স্বামীর কাছ থেকে ধারণা নিয়ে রাখলে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে।

২. সময় নিন: শ্বশুরবাড়ির সব বিষয়ে জড়িত হওয়ার আগে সময় নিন। পরিবারের সবার মনমানসিকতা এবং আপনার কাছে তাঁদের প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করুন। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগার বিষয়গুলোও গল্পচ্ছলে তাঁদের বুঝতে দিন।

৩. আন্তরিক যোগাযোগ স্থাপন: শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলুন। নিজের পরিবারের সঙ্গে যেভাবে মিশতেন, সেভাবে মেশার চেষ্টা করুন।

৪. ত্রুটি-বিচ্যুতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়: শ্বশুরবাড়ির কোনো কিছু ভালো না লাগলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো। মনে রাখবেন, সবকিছুরই ভালো-মন্দ থাকে। খারাপটাকে উপেক্ষা করে ভালো দিকগুলোর প্রতি মনোযোগী হন এবং ভালো লাগা বিষয়গুলোর প্রশংসা করুন।

৫. সমালোচনায় যোগ না দেওয়া: শ্বশুরবাড়ির কেউ অন্য কারও সমালোচনা করলে আপনি তাতে যোগ দেবেন না। একজনের কথা অন্যজনকে বলা থেকে বিরত থাকুন।

৬. রূঢ় আচরণে প্রতিক্রিয়া: কারও আচরণে কষ্ট পেলে সেটা এমনভাবে প্রকাশ করুন, যাতে সেই ব্যক্তির মনে আঘাত না লাগে বা লজ্জা না পায়; কিন্তু বুঝতে পারেন যে আপনি কষ্ট পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে রূঢ় হওয়া বা অতিমাত্রায় নমনীয় থাকা—কোনোটাই ঠিক নয়।

৭. নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সময় দিন: মনে রাখবেন, নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবে। ধৈর্য, বিবেচনা আর সহনশীলতার সঙ্গে নিজস্বতা ঠিক রেখে নিজেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরুন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই আপনার অনুকূলে চলে আসবে।


স্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক গড়তে স্বামীর ১০টি ভূমিকা:

 

স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বামী সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে থাকেন। তবে তাঁর বিচক্ষণতা এই জটিল বিষয়টিকে অনেক সহজ করতে পারে:

১. সহযোগী মনোভাব: স্ত্রীর প্রতি আপনার সহযোগী মনোভাব ব্যক্ত করুন। তার যেকোনো সমস্যায় আপনি তার পাশে আছেন, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করুন।

২. পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিন: বাড়ির পরিবেশ, নিয়ম-রীতি এবং সবার সম্পর্কে স্ত্রীকে প্রাথমিক ধারণা দিন। প্রত্যেকের সঙ্গে তাঁর কী রকম দায়িত্ব হবে, সেটা স্পষ্ট করে বলুন।

৩. সবার প্রতি মনোযোগ: স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সমান মনোযোগ দিন। কারও সামনে কাউকে হেয় করবেন না।

৪. স্ত্রীর অসুবিধা বুঝুন: নতুন পরিবেশে স্ত্রী কোনো অসুবিধাবোধ করলে মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনুন। সমস্যাটা আপনি বুঝতে পেরেছেন, তা প্রকাশ করুন এবং মানিয়ে নিতে সাহায্য করুন।

৫. একান্ত সময় কাটান: স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটান, গল্প করুন, বাইরে বেড়ান। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সমালোচনা উপেক্ষা করুন। পাশাপাশি তাঁদের প্রতিও মনোযোগ বাড়িয়ে দিন।

৬. শ্বশুরবাড়ির প্রতি আন্তরিকতা: শ্বশুরবাড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা দেখান। তাঁদের খোঁজখবর নিন, পারিবারিক অনুষ্ঠানে যান। স্ত্রীর কাছে তাঁদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।

৭. চেষ্টার প্রশংসা করুন: নতুন পরিবেশে স্ত্রীর মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে প্রশংসা করুন। অন্যের সামনে তাঁর সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।

৮. পরিবারের গুরুত্ব জানান: গল্পচ্ছলে আপনার কাছে আপনার পরিবারের গুরুত্বের কথা স্ত্রীকে জানান।

৯. তুলনা করবেন না: মা বা বোনের গুণের সঙ্গে স্ত্রীকে তুলনা করবেন না।

১০. আত্মমর্যাদা রক্ষা: কোনো ভুলত্রুটি করলে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধকে সম্মান করে বুঝিয়ে বলুন, যাতে তিনি কষ্ট না পান।