প্রাক্তন প্রেমিকার পোস্টে স্বামীর ‘লাভ’ রিঅ্যাকশন! জলপাইগুড়িতে রক্তারক্তি কাণ্ড, থানায় অভিযোগ দায়ের

জলপাইগুড়ি: স্বামীর প্রাক্তন প্রেমিকার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে একটি ‘লাভ’ রিঅ্যাকশন দেওয়ার জেরেই সংসারে শুরু হলো তুমুল অশান্তি, যা শেষ হলো রক্তারক্তিতে। প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি স্বামীর ‘আশক্তি’ মেনে নিতে না-পেরে প্রথমে বাক-বিতণ্ডা, এরপর দু’পক্ষের হাতাহাতিতে বধূর মাথা ফাটল এবং জখম হলেন তাঁর ননদও। ঘটনাটি জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের ভেমটিয়া এলাকার।
পেশায় রাজমিস্ত্রি শাহজাহান আলি এবং রুবিনা পারভিনের মধ্যে মোটের উপর সুখের সংসার চলছিল, তাঁদের একটি ছেলেও রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি স্বামীর সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপকে ঘিরে রুবিনার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।
‘লাভ’ রিঅ্যাকশনেই হুলুস্থুল!
জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে শাহজাহান তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করছিলেন। রুবিনা তাঁকে নিষেধ করলেও, গত শনিবার প্রাক্তন প্রেমিকার একটি ছবিতে শাহজাহান ‘লাভ’ রিঅ্যাকশন দেন বলে অভিযোগ।
এটা রুবিনার নজরে আসার পরই স্বামীর সঙ্গে তাঁর বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। তখনই স্বামীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকার সাম্প্রতিক মেসেজ (‘কী করো সোনা!’) ও ফোনালাপ রুবিনার সামনে আসে। এই দেখেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন রুবিনা। স্বামীর ‘পরকীয়া’ সম্পর্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাহজাহান ও তাঁর বোন রুবিনার উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।
দুই পরিবারের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে রুবিনা তাঁর দিদি বিউটি পারভিনকে খবর দেন। রুবিনার দিদি ও বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুই পরিবারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, সেই সময় শাহজাহানের বোন রাবেয়া খাতুন বালতি দিয়ে আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রুবিনা।
এই মারপিটে রুবিনা এবং তাঁর পরিবারের আরও এক সদস্য জখম হন। আহত হয়েছেন শাহজাহানের বোন রাবেয়াও। তিনজনকেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুই পক্ষের পালটা অভিযোগ
আহত রুবিনা পারভিনের অভিযোগ, “আমার স্বামী এখনও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। অনেকবার বারণ করা সত্বেও কোনও কথা শোনেনি। বাচ্চার খাবার না এনে উল্টে আমার মোবাইল ভেঙে দিয়েছে। তার প্রাক্তন প্রেমিকার ছবিতে ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছে। মেসেজ করাও শুরু করেছে। আমি প্রতিবাদ করতেই স্বামী বলে, ‘আমি যা ইচ্ছা তাই করব।’ আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ও আমার পরিজনদেরও মারধর করেছে।”
অন্যদিকে, ননদ রাবেয়া খাতুনের দাবি, “আমার ভাই একটি মেয়ের পোস্টে ‘লাভ’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছিল। সেটা নিয়েই ঝগড়া। আমি বউদিকে পরামর্শ দিই মেয়েটিকে ব্লক করে দিতে। এরপর ভাই বউদিকে বলে, ‘তোমাকেও তো অনেক ছেলে মেসেজ করে।’ এটা শোনার পরেই বউদি তাঁর নিজের মোবাইল নিজেই ভেঙে দেয়। এরপর ঝগড়া চরম আকার নেয় দুই পরিবারের লোক আসার পর। ভিড়ের মধ্যে কার মাথা কেমন করে ফেটেছে সেটা বলতে পারব না।”
ধূপগুড়ি থানার আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্য জানান, “ভেমটিয়া এলাকায় পারিবারিক অশান্তির ঘটনায় দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”