জগদ্দলে চরম উত্তেজনা: তোলাবাজি-কাটমানির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম-ঘুষি!

পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও থানার ভিতরেই তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার শিবদাসপুর থানায়। তোলাবাজি ও কাটমানি আদায়ের অভিযোগে ধৃত সুরঞ্জন মালাকারকে বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই থানা চত্বরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে।

অভিযোগের পাহাড়: ধৃত সুরঞ্জন মালাকার মামুদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রিয়াঙ্কা মালাকারের স্বামী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র তোলাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। জমি-বাড়ি কেনাবেচা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া—সবক্ষেত্রেই কাটমানি দাবি করতেন তিনি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন শাসকের ছত্রছায়ায় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সুরঞ্জনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়।

কী ঘটেছিল থানায়? নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সুরঞ্জন। বুধবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিবদাসপুর থানার সামনে ভিড় জমান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দুপুরে যখন পুলিশ তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় বিজেপি কর্মীরা পুলিশি ব্যূহ ভেদ করে তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি কাঁচা ডিম ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় পুলিশ। বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপরেও।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: স্থানীয় বিজেপি নেতা তাপস ঘোষের দাবি, “গত ১৫ বছরে সুরঞ্জন যা অত্যাচার করেছেন, তাতে মানুষ অতিষ্ঠ। পঞ্চায়েতের উপভোক্তাদের থেকে টাকা হাতানোই ছিল তাঁর কাজ।” যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে, তবে থানার অভ্যন্তরে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। জনরোষ কতটা তীব্র হতে পারে, জগদ্দলের এই ঘটনা তারই প্রমাণ।