“দু’দিনের মধ্যে ফের আসব, আমাকে আটকাতে পারবেন না” বীরভূমের কির্ণাহারে দাঁড়িয়ে কেষ্ট-কাজলকে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতরত্ন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত “এক ভারত আত্মনির্ভর ভারত” -এর লক্ষ্যে “একতা যাত্রা”য় যোগ দিতে মঙ্গলবার বীরভূমের কীর্ণাহারে এসেছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েই তিনি বীরভূমের তৃণমূল নেতা কেষ্ট এবং কাজলকে নাম করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

হুঁশিয়ারি মস্তানদের:

শুভেন্দু অধিকারী জনসভায় বলেন, “এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাকে দু’দিনের মধ্যে পুনরায় বীরভূমে আসতে হয়। বড় বড় মস্তানদের সঙ্গে আমি লড়াই করেছি। আপনারা তাদের তুলনায় কিছু না।”

শোভাযাত্রা শেষে কীর্ণাহার বাস স্ট্যান্ডে কার্যকর্তাদের নিয়ে সভায় তিনি সরাসরি তৃণমূলের দুই নেতাকে আক্রমণ করেন:

  • তৃণমূলকে আক্রমণ: তিনি বলেন, “বীরভূম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জেলা। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি। সেই জেলায় চলছে ‘লুটশ্রী’ প্রকল্প। বীরভূম জেলার প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি।”

  • কেষ্ট-কাজলকে চ্যালেঞ্জ: শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে কেষ্ট, কাজল বড় মস্তান? নন্দীগ্রামে বড় বড় মস্তানের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছি। এরা কিছুই না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “আমি নন্দিগ্রাম না করলে আপনাদের দিদি, দিদি থেকে দিদিমা হতেন। সেই নন্দীগ্রামে আমি উনাকে হারিয়েছি। এবার ভবানিপুরেও হারাব। আমাকে আটকাতে পারবেন না।”

  • নানুরের দায়িত্ব: তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাকে আটকাতে পারবেন না। মঙ্গলকোটে ডাবলু আনসারিকে চ্যালেঞ্জ করেছি। আপনারা কিছুই না। আমি নানুরের দায়িত্বে আছি। দেখা হবে কাজল এবং তাঁর দাদা সাহানেওয়াজের সঙ্গে। সব থেকে বেশি যেখানে ঝামেলা হবে সেখানেই আমি পোঁছে যাব।”

এসআইআর ও মুসলিম ভোট:

শুভেন্দু অধিকারী সভায় যোগ দিয়ে মুসলিম ভোট এবং এনআরসি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এসআইআর-এ ভারতীয় মুসলিমদের চিন্তার কিছু নেই। তারা আমাদের ভোট না দিলেও, আমরা চাই তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হোক কারণ তারা ভারতীয়। কিন্তু বাংলাদেশি রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাদ দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিহারের শিক্ষিত জাতীয়তাবাদী মুসলিমরাও মোদীজিকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। তাই বাংলায় আওয়াজ তুলুন মমতাকে ভোট না দেওয়ার। এখানকার জাতীয়তাবাদী মুসলিমরা, যারা বোমা তৈরি করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের মোদীজির উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে যোগ দেওয়া উচিত। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং তৃণমূলকে তাড়ানোর সময়।”

সফরে কারা ছিলেন:

এই সফরে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বীরভূম ও বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা এবং শ্যামাপদ মণ্ডল। শোভাযাত্রা কির্ণাহার ২ অঞ্চল অতিক্রম করার সময় তৃণমূলের কার্যালয় থেকে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হলেও, শুভেন্দু অধিকারী সেদিকে কর্ণপাত করেননি।