রাজভবনে গণবিবাহের আয়োজন ভেস্তে যাওয়ার পথে! কেন দুঃস্থ পরিবারগুলি আবেদন করল না? সামনে এল আসল কারণ!

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের পদে আগামী ২৩ নভেম্বর তিন বছর পূর্তি হতে চলেছে। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজভবনের উদ্যোগে গণবিবাহের আয়োজনের ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ১০০টি দুঃস্থ পরিবারকে আবেদন জানানোর জন্য বলা হলেও, সেই আহ্বানে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। ফলে, আগামী ২৩ নভেম্বর রাজভবনে গণবিবাহের আসর বসবে কি না, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

আবেদনে সাড়া না মেলার কারণ:

রাজভবনের তরফে গত ৪ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে পাত্র-পাত্রীর বিস্তারিত তথ্য-সহ দুঃস্থ পরিবারগুলিকে আবেদন করতে হবে। কিন্তু, গুটিকয়েক আবেদনপত্র জমা পড়ায় রাজভবনের এক বিশেষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “কোনও গণবিবাহ হচ্ছে না। ২৩ নভেম্বর বিয়ের আসর বসবে কি না ঠিক নেই।”

সূত্রের দাবি, গণবিবাহের আবেদনের জন্য যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তাতেই একাধিক জটিলতা রয়েছে। মূলত একগুচ্ছ শংসাপত্র ও নথি চাওয়ার কারণেই দুঃস্থ পরিবারগুলি আবেদন করতে নারাজ:

  • নথিপত্রের জটিলতা: আবেদনকারীদের থেকে পাত্র ও পাত্রীর বৈধ জন্ম ও বয়স প্রমাণের নথি, বাবা-মা না থাকলে বর্তমান অভিভাবকের আইনি বৈধতার প্রমাণপত্র চাওয়া হয়েছিল।

  • নথি যাচাইয়ের সমস্যা: সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো— আবেদনপত্রের সঙ্গে সেই সব প্রামাণ্য নথির বৈধতা প্রমাণ করতে পঞ্চায়েত প্রধান বা গেজেটেড অফিসারের স্বাক্ষর করা নথি জুড়ে দিতে বলা হয়েছে।

  • SIR আবহে নথিপত্র জোগাড়: মনে করা হচ্ছে, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে এসআইআর (Special Intensive Revision) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলায় অধিকাংশ সরকারি দফতরে এইসব প্রামাণ্য নথি বের করা বা শংসাপত্র জোগাড় করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এত ‘ঝামেলাঝঞ্ঝাট’ পোহাতে গরিব-দুঃস্থ পরিবারগুলি নারাজ।

আবেদনপত্রে চাওয়া প্রধান তথ্যগুলি:

রাজভবনের তরফে পাত্র ও পাত্রীর আবেদনপত্রে নাম, ঠিকানা, পেশা, বাৎসরিক আয়, আধার নম্বর, বিবাহ নিবন্ধনের প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি নিম্নলিখিত জটিল শংসাপত্রগুলি চাওয়া হয়েছিল:

  • কনে ও বরের বৈধ বয়স প্রমাণের নথি (Valid Age Proof)

  • পিতামাতা/আইনগত অভিভাবকের স্বাক্ষর (Signature)

  • গ্রামের প্রশাসনিক আধিকারিক/পঞ্চায়েত প্রধান বা কোনো গেজেটেড অফিসারের দেওয়া শংসাপত্র (Certificate), যাতে উল্লিখিত বিবরণগুলির যথার্থতা প্রমাণিত হবে।

  • আইনগত অভিভাবক নিয়োজিত থাকলে, আদালতের আদেশের অনুলিপি

উল্লেখযোগ্য, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের এক বছর পূর্তিতেও রাজভবনে ৩৬৫ জনের গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল।