বলিউডের ছোট-বড়ো-মেজো সব তারকাই অত্যন্ত ফিটনেস সচেতন, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীরাও কিছু কম যান না। করিনা কাপুর আর সেফ আলি খান একসঙ্গে যোগাভ্যাস করেন। স্ত্রী মীরা রাজপুত কাপুরের ফিটনেস চার্টে সদাসতর্ক নজর রাখেন শাহিদ কাপুর। বিপাশা বসু আর করণ সিং গ্রোভার, কৃতি স্যানন আর সুশান্ত সিং রাজপুতকেও একইসঙ্গে ঘাম ঝরাতে দেখা যায়। অনুষ্কা শর্মা আর বিরাট কোহলিও নাকি তাঁদের সদ্য পাতা সংসারে মজুত রেখেছেন শরীরচর্চার ও শরীরে মেদের পরিমাণ মেপে নেওয়ার নানা সরঞ্জাম।
কেন এমনটা করেন তাঁরা? অনেক ফিটনেস বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে দীর্ঘ সময় ধরে যাঁদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে হয়, তাঁরা যদি নিজেদের স্ত্রী বা স্বামীকেও দলে টেনে নেন, তা হলে খুব সুবিধে হয়। তাতে একদিকে যেমন মোটিভেশন পাওয়া যায়, তেমনই আবার খাওয়াদাওয়ার বিধিনিষেধগুলো মেনে চলতেও সুবিধে হয়। পাঁচতারা হোটেল ‘দ্য ওয়েস্টইন কলকাতা, রাজারহাট’-এর জিম ‘দ্য ওয়েস্টইন ওয়ার্কআউট ফিটনেস স্টুডিয়ো’-র সঙ্গে যুক্ত ফিটনেস এক্সপার্ট টুটান সরকার বলছেন, ‘‘স্বামী-স্ত্রী যদি একে অপরের সঙ্গে ব্যায়াম করতে পারেন বা ফিট হওয়ার লক্ষ্য স্থির করে নেন, তা হলে তাঁদের মধ্যে যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাটা দেখা যায়, তাতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ে, একজনকে ভালো করতে দেখে অন্যজন নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তাতে ক্লাস কামাই করার বাহানা তো খুঁজবেনই না, উলটে অপেক্ষায় থাকবেন এই ধরনের সেশনের জন্য।’’
আজকাল খুব সামান্য কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়, সারাদিন পরস্পরকে সময় দিতে না পারার কারণে আলাদা হয়ে যান বহু দম্পতি। ভেঙে যায় বিশ্বাস, ছোট-খাটো নানা কারণে ঝগড়া লাগে। এই ধরনের সমস্যা আপনার সম্পর্কেও হচ্ছে কী? তা হলে একবার একসঙ্গে ব্যায়ামের ক্লাসে ভর্তি হয়ে দেখতে পারেন। মনোবিদরা বলেন, তাতে একসঙ্গে অনেকটা সময় কাটে। অনেক ব্যায়াম আছে যেগুলি একে অন্যের শরীরের সাপোর্ট ছাড়া করা যায় না, তাতে ক্রমশ নির্ভরতা বাড়ে। আর ক্রমশ যদি ফিটনেস আপনাদের যৌথ প্যাশনে পরিণত হয়, তা হলে তো আর কথাই নেই!
ব্যায়ামের আরও কতগুলো পজ়িটিভ দিক আছে। সুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ আপনাদের মধ্যেকার আত্মবিশ্বাসও ফিরে আসতে আরম্ভ করবে। আর একবার নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে আরম্ভ করলে কমতে আরম্ভ করবে বিরক্তি আর হিংসার বোধ। দুটোই আপনার সম্পর্ককে আরও উন্নত করে তুলতে সাহায্য করবে। তবে কেবল ভিডিয়ো দেখে এই ধরনের ব্যায়াম করতে যাবেন না, তাতে চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, ট্রেনারের পরামর্শ মেনে চলুন অক্ষরে অক্ষরে৷ আর যাঁরা সিঙ্গল, তাঁরা প্রিয় বন্ধু বা বান্ধবীটিকে দলে টানুন, তাতে মোটিভেশনের অভাব হবে না কখনও৷
পরবর্তী গল্প :
পায়ের ব্যায়াম করার সময় এই ভুলগুলি করছেন না তো?
Body Mass Index (BMI) Calculator
WEIGHT
kg
HEIGHT
cm
পরবর্তী গল্প
ফেমিনাবাংলাস্বাস্থ্যডায়েট ও ফিটনেসপায়ের ব্যায়াম করার সময় এই ভুলগুলি করছেন না তো?
পায়ের ব্যায়াম করার সময় এই ভুলগুলি করছেন না তো?
লিখছেন রুদ্রাণী ভট্টাচার্য
Jun 20, 2020, 00:00 IST
FOLLOW ON
পায়ের ব্যায়ামের টিপস
এ কথা মোটামুটি সবাই বুঝে গিয়েছেন যে সুস্থ থাকার জন্য কোনও না কোনও ব্যায়াম সবাইকেই করতে হবে – তা না হলে এই বন্দিদশায় শরীর ক্রমশ খারাপ হতে আরম্ভ করবে, টোনড চেহারা ধরে রাখাও মুশকিল হবে। তা ছাড়া আপাতত জিম বা হেলথ ক্লাব খোলার প্রশ্নই নেই। তাই যা করার, আপনাকে বাড়িতে থেকেই করতে হবে।
পায়ের মাসলগুলো আকারে বড়ো, ব্যায়াম করতে আরম্ভ করলেই ব্যথা হবে। মাসলে ক্র্যাম্পও ধরতে পারে। তাতে পিছিয়ে গেলে চলবে না একেবারেই। ব্যায়াম শুরুর আগে ও পরে খুব ভালো করে স্ট্রেচ করুন। স্ট্রেচিং মাসলের স্থিতিস্থাপকতা সুনিশ্চিত করে। যা-ই করুন না কেন, হাঁটু বাঁচিয়ে করতে হবে। হাঁটুতে চোট লাগলে ভুগতে হবে বহুদিন। খুব ভালো হয় যদি নি-গার্ড পরে ব্যায়াম করতে পারেন। নি-গার্ড না থাকলে মোটা কাপড়ের টুকরো বেঁধে নিলেও চলবে। চেষ্টা করুন ব্যায়ামের উপযোগী জুতো পরে থাকার। তাতে পা সুরক্ষিত থাকে। জুতোর সঙ্গে মোজা পরাটাও খুব জরুরি – তাতে বাড়ে পায়ের নিরাপত্তা।
আমাদের পায়ের প্রধান মাসল গ্রুপ তিনটি — কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিং, আর কাফ। আপনার থাইয়ের সামনের দিকের মাসল হচ্ছে কোয়াড্রিসেপ। বড়ো এবং লম্বা পেশি — এটি শক্তিশালী হলেই ব্যালান্স ঠিক থাকবে, চলায় আসবে গতি ও ছন্দ। থাইয়ের পিছনদিকের লম্বা মাসল হল হ্যামস্ট্রিং। খুব চোটপ্রবণ এই মাসল এবং সে চোট দীর্ঘদিন ভোগায়। তাই হ্যামস্ট্রিং শক্তপোক্ত রাখার জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম করা একান্ত প্রয়োজনীয়। অনেকেই পায়ের যত্ন করতে গিয়ে অবহেলা করেন কাফ মাসলের — সেটা ঠিক না। আপনার শরীরের ওজনের অনেকটাই বহন করে কাফ মাসল, তাই ব্যায়াম করার সময় তার দিকেও যথেষ্ট নজর দিতেই হবে।
নানা ধরনের স্কোয়াট আর লাঞ্জেস পায়ের সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। তবে আপনি যদি অনলাইন ক্লাসও করেন, মন দিয়ে দেখুন ইনস্ট্রাক্টর ঠিক কী করছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পারফেক্টভাবে করার চেষ্টা করুন। কাফ মাসল আর গ্লুটস বা নিতম্বের বেশির নানা ব্যায়াম হয়, বাদ দেবেন না সেগুলিও। অতি অবশ্যই পায়ের ব্যায়াম করার পর স্ট্রেচিং করতে হবে। একদিন এই ধরনের ব্যায়াম করার পর অন্তত দু’দিন একেবারে বিশ্রাম দিন পায়ের পেশিকে। চোট সারিয়ে ষক্তি সংগ্রহ করতে তার এটুকু সময় লাগবে।





