ডেস্কের কাজ: অজান্তেই হজমে চাপ, ডেকে আনছে শরীরের নানা সমস্যা!

অফিসের ডেস্কে বসে কাজ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, সেদিকে খেয়াল থাকে না অনেকেরই। এই তো ভাবছেন, হাতের কাজটা শেষ করেই উঠবেন, এমন সময় চলে এলো আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ! চা খেতে যাওয়া বা জলের বোতল ভরার মতো ছোটখাটো বিরতিও বাদ পড়ে যায় কাজের চাপে। চিকিৎসকরা বলছেন, একটানা এভাবে ডেস্কে বসে কাজ করা আমাদের হজমশক্তিকে বেহাল দশায় ফেলে দিচ্ছে এবং ডেকে আনছে আরও অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
কেন হচ্ছে এই ক্ষতি?
মূল সমস্যা আসলে চা-পানের বিরতি না পাওয়া নয়, বরং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসের ডেস্ক থেকে উঠতে না পারা। চিকিৎসকদের মতে, এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই অভ্যাসই আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। যখন আমরা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকি, তখন শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
এছাড়াও, বসে থাকার কারণে পাকস্থলী এবং অন্ত্র সংকুচিত অবস্থায় থাকে। একটানা বসে থাকলে এই প্রত্যঙ্গগুলো দীর্ঘক্ষণ একইভাবে সংকুচিত থাকে, যার ফলে তারা তাদের স্বাভাবিক কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে না।
কী কী ক্ষতি হচ্ছে?
সকালে নাস্তা করে অনেকে অফিসে আসেন, আবার অনেকে অফিসে বসেই নাস্তা সারেন। চিকিৎসকদের মতে, খাবার হজম হতে সময় লাগে। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করলে ক্যালরি খরচ হয় এবং হজমও দ্রুত হয়। কিন্তু বসে থাকলে একই খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়। এর ফলে পেট ভার হয়ে থাকা, গ্যাস এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রক্ত সঞ্চালন কম হওয়ার জন্যও হজমশক্তির ওপর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, বসে থেকে কাজ করার জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের। সহজে পেট পরিষ্কার হয় না, অন্ত্রে বর্জ্য থেকে যায়, অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস পরিপাকতন্ত্রে থাকা হজমে সহায়ক মাইক্রোবায়োম-এরও ক্ষতি করে।
কেন গুরুত্ব দেবেন পেটের স্বাস্থ্যে?
পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শরীরের বহু রোগ দূরে থাকে। কারণ, পেটের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হরমোনের স্তর এবং শরীরের ওজনও। এটি পরোক্ষভাবে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের সঞ্চালন এবং এমনকি আমাদের মেজাজকেও প্রভাবিত করে। পেটের স্বাস্থ্যের সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকেও। তাই পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কী করা উচিত?
মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন: বসার সময় খেয়াল রাখুন আপনার মেরুদণ্ড যেন সোজা থাকে।
নিয়মিত বিরতি নিন: অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পরপর ডেস্ক থেকে উঠে সামান্য হাঁটাহাঁটি করে নিন। এই সময়ে আপনি কাউকে ফোন করার মতো কাজও সেরে নিতে পারেন।
ফাইবারযুক্ত খাবার খান: খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি আছে এমন খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।
প্রোবায়োটিকস খান: দই জাতীয় প্রোবায়োটিকস বেশি করে খান।
গাঁজানো খাবার: ধোকলা, ইডলি, দোসা, মাখন তোলা দুধের মতো গাঁজানো খাবারও পেটের জন্য ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম: আপনার পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।