তারাতলা বিপর্যয় থেকে শিক্ষা, এনডিআরএফ-এর ছাঁচে তৈরি হবে বাংলার সিভিল ডিফেন্স!

তারাতলার ভয়াবহ গুদাম বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ারদের আরও দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের এই নয়া পরিকল্পনার আওতায়, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের এখন থেকে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স বা এনডিআরএফ-এর ধাঁচে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার থাকলেও, বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়ভাবে কর্মরত রয়েছেন ৭ থেকে ৮ হাজার জন। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের লক্ষ্য, এই কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ধারকার্যে সিদ্ধহস্ত করে তোলা। এনডিআরএফ-এর অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে তারা মূলত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, বন্যা ও জল থেকে উদ্ধার, ভূমিকম্প মোকাবিলা, ঘূর্ণিঝড় এবং ভূমিধসের মতো জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করবেন।

প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হবে অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ভিকটিম লোকেটর, স্যাটেলাইট ও ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে ভলান্টিয়ারদের দক্ষ করে তোলা হবে। এছাড়া, বিশেষ সুরক্ষা পোশাকের ব্যবহার এবং কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাও শেখানো হবে। এনডিআরএফ-এর কাছ থেকে এই প্রশিক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।

এদিকে, তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, যে গুদামের ছাদে বিপর্যয় ঘটেছিল, তার জমি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজ নিয়েছিল ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থা। সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুদামটির নকশায় গুরুতর ত্রুটি ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।