টেবিলে নয়, মাটিতে বসেই খান! রোগমুক্তির চাবিকাঠি লুকিয়ে এখানেই

গবেষণা বলছে, টেবিল-চেয়ারে বসে খাবার খেলে পেট ভরলেও শরীরের তেমন উপকার হয় না। বরং বাড়ে নানা রোগ-ব্যাধির ঝুঁকি। অন্যদিকে, মাটিতে বাবু হয়ে বসে খেলে পাওয়া যায় একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। শুধু তাই নয়, শরীরও থাকে রোগমুক্ত। মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার এই বিস্ময়কর গুণাবলী সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। আসুন, জেনে নেওয়া যাক মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা:

১. অজান্তেই একাধিক আসন: মাটিতে বসে খাওয়ার সময় আমরা নিজেদের অজান্তেই সুখাসন, সোয়াস্তিকাসন অথবা সিদ্ধাসনের মতো বিভিন্ন যোগাসন করে ফেলি। এর ফলে শুধু পেটই ভরে না, শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়ই ভেতর থেকে সতেজ হয়ে ওঠে।

২. শরীর হয় শক্তপোক্ত: নিয়মিত মাটিতে বসে খাওয়ার অভ্যাস থাই, গোড়ালি এবং হাঁটুর কর্মক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি মেরুদণ্ড, পেশি, কাঁধ এবং বুকের নমনীয়তাও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সার্বিকভাবে শরীরে সচলতা বাড়ে এবং অনেক রোগ দূরে থাকে।

৩. হজম ক্ষমতার উন্নতি: বাবু হয়ে বসে খেলে হজম ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। যাদের বদহজম বা গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের টেবিল-চেয়ারে বসে খাওয়া উচিত নয়। মাটিতে বসে খাওয়ার সময় আমরা কখনও সামান্য ঝুঁকে আবার কখনও সোজা হয়ে বসি। এই বারবার পরিবর্তনের ফলে হজম সহায়ক ডায়জেস্টিভ জুসের ক্ষরণ বাড়ে এবং হজম প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও, মাটিতে বসার সময় মেরুদণ্ডের নিচের অংশে চাপ পড়ায় স্ট্রেস কমে এবং শরীর চাঙ্গা থাকে।

৪. বাড়ে আয়ু: মাটিতে বসে খেলে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও কমে যায়। ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, যারা সাপোর্ট ছাড়া মাটিতে বসে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাদের শরীরের নমনীয়তা ও বিভিন্ন অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা স্বাভাবিকভাবেই আয়ু বাড়াতে সহায়ক। যারা এটি করতে পারেন না, তাদের আয়ু তুলনামূলকভাবে কম হতে দেখা যায়। এই গবেষণাটি ৫১-৮০ বছর বয়সীদের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল।

৫. কমে ব্যথা: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মাটিতে বসে খাওয়ার সময় আমরা মূলত পদ্মাসনে বসে থাকি। এই ভঙ্গিতে বসার কারণে পিঠ, পেলভিস এবং তলপেটের পেশীর কার্যকারিতা বাড়ে। এর ফলে সারা শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: মাটিতে বসে খাওয়ার সময় ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পেট ভরলে খুব সহজেই সেই বার্তা মস্তিষ্কে পৌঁছায়, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। নিয়মিত এমনটা হলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৭. বাড়ে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা: হাঁটু মুড়ে বসে থাকার সময় শরীরের উপরের অংশে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। ফলে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

৮. সারা শরীরে রক্ত চলাচল উন্নত হয়: শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছানো জরুরি। মাটিতে বাবু হয়ে বসে থাকার সময় সারা শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের চলাচল বৃদ্ধি পায়, যা রোগের প্রকোপ কমিয়ে শরীরকে চাঙ্গা রাখে।

৯. কমে স্ট্রেসের মাত্রা: শুনতে অবাক লাগলেও একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাটিতে বসে থাকলে শরীর ও মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কিছু পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাবে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। ফলে মানসিক অবসাদ এবং স্ট্রেসের মাত্রা উভয়ই হ্রাস পায়।

সুতরাং, সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন চাইলে আজ থেকেই টেবিল-চেয়ার ছেড়ে মাটিতে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রকৃতির এই সহজ নিয়মে লুকিয়ে আছে আপনার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।