টেনশনে বারবার বাথরুমে যাচ্ছেন? হতে পারে আইবিএস, এড়িয়ে চলুন এই ৫ খাবার!

সামান্য টেনশন বা চাপেও বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও আসলে কিন্তু এটি একটি পরিচিত সমস্যা, যার নাম ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)। এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বেশিরভাগ মানুষেরই আইবিএস সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইবিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তির বৃহদন্ত্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে থাকে, যার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পেটে যেসব সমস্যা বোঝা যায় না, আইবিএস রোগীরা সেগুলো বুঝতে পারেন।

আইবিএস-এর লক্ষণ ও প্রভাব
আইবিএস-এ আক্রান্ত হলে পেটে সব সময়ই এক ধরনের অস্বস্তি থাকে। সামান্য টেনশন হলেও পায়খানার চাপ চলে আসে। অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাথরুমের চাপ চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে রোগীদের কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

আইবিএস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর ৫ খাবার
এখানে এমন ৫টি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, যা আইবিএস রোগীদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে:

কাঁচা মরিচ: কাঁচা মরিচের মধ্যে ক্যাপসিসিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, তাদের কাঁচা মরিচ এবং ক্যাপসিকাম উভয়ই এড়িয়ে চলা উচিত।

পেয়ারা: পেয়ারা একটি উপকারী ফল হলেও আইবিএস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি উল্টো কাজ করতে পারে। পেয়ারায় থাকা ফাইবার ও ভিটামিন সি উপকারী হলেও এর বীজ আইবিএস রোগীদের পেটে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা থাকলে পেয়ারা থেকে দূরে থাকুন।

পটল: আইবিএস সমস্যা থাকলে পটল খেলেও রোগ বাড়তে পারে। পটলের বীজ থেকে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে যদি পটলের বীজ ফেলে রান্না করা হয়, তাহলে সমস্যা হয় না। তাই আইবিএস আক্রান্তরা পটল খেতে চাইলে বীজ ফেলে খাবেন। এতে রোগের বাড়াবাড়ি হবে না এবং পটলের পুষ্টিগুণও বজায় থাকবে।

আপেল: অনেক উপকারী খাবারও আইবিএস আক্রান্ত রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তেমনই একটি খাবার হলো আপেল। আপেলের খোসা থেকে আইবিএস আক্রান্ত রোগীর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলে আপেলের খোসা এড়িয়ে যাবেন এবং আপেল খেতে চাইলে খোসা ছাড়িয়ে খাবেন।

দুধ: অনেকের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে। আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত দুধ খেলে তাদের সমস্যা বাড়তে পারে। যে কারণে এ ধরনের সমস্যায় দুধ থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়াও, অন্যান্য দুগ্ধজাত পদার্থ থেকে সমস্যা হলে সেগুলোও এড়িয়ে চলা উচিত।

উপসংহার:
আইবিএস একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। সঠিক খাদ্যভ্যাস এবং জীবনযাপন পদ্ধতির মাধ্যমে এর লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদি আপনার এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকতে আপনার খাদ্যতালিকায় সচেতনতা জরুরি।