ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসার দিনক্ষণ চূড়ান্ত! অন্নপূর্ণা যোজনায় কাদের কপাল খুলল? জেনে নিন বিস্তারিত

রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুখবর। জুলাই মাসের শুরুতেই রাজ্যের ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের, বিশেষত প্রান্তিক পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই নতুন আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।

কেন হঠাৎ উপভোক্তার সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেল? মূলত রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সার্ভে অনুযায়ী, আরও বহু মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই এই বর্ধিত উপভোক্তা তালিকায় নাম যুক্ত হয়েছে। যারা এতদিন এই সুবিধার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বিশাল প্রাপ্তি।

কিভাবে এই টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে? রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) বা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরের মাধ্যমেই এই ৩,০০০ টাকা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। টাকা পাঠানোর আগে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের তথ্য পুনরায় যাচাই করে নেওয়া হয়েছে যাতে সঠিক উপভোক্তার কাছেই সরকারি অনুদান পৌঁছায়।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য? রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় নির্দিষ্ট সীমার নিচে, তাঁরাই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে বিধবা, বয়স্কা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মহিলারা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। যারা নতুন করে আবেদন করেছেন, তাঁদের নামও বর্তমান তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা তাঁদের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়তা করবে।

রাজ্য সরকারের সর্বশেষ এই ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে দেরি হলে বা কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় পৌরসভা বা পঞ্চায়েত দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবলমাত্র আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়নও নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে ৩,০০০ টাকার এককালীন এই সহায়তা লক্ষ লক্ষ মহিলার মুখে হাসি ফোটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে, যেখানে উপভোক্তারা তাঁদের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। জুলাই মাসের এই বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন এখন পূর্ণমাত্রায় প্রস্তুত।