জিমে গিয়ে ওজন কমাতে চান? শুরুর আগে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন!

আজকাল স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়তি ওজন শরীরের একাধিক রোগের কারণ হতে পারে, তাই নিজেকে ফিট রাখতে অনেকেই কঠোর ডায়েট ও শরীরচর্চার দিকে ঝুঁকছেন। জিমে গিয়ে শরীরচর্চা ওজন কমানোর পাশাপাশি জয়েন্টের ব্যথা কমাতেও বেশ কার্যকরী। তবে জিমে গিয়ে অতি উৎসাহে কিছু ভুল করে ফেললে লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওজন কমানোর জন্য মন দিয়ে শরীরচর্চা করা জরুরি, কিন্তু শুরু থেকেই অতিরিক্ত ওজন তোলা, খুব বেশি ডাম্বেল এক্সারসাইজ করা অথবা প্রায় কিছুই না খেয়ে থাকা একদমই উচিত নয়। প্রতিদিন কতটা ক্যালোরি ঝরাচ্ছেন, তার হিসাব রাখার পাশাপাশি ডায়েট চার্টেও ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
জিমে গিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? তাহলে এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন:
অবশ্যই অভিজ্ঞ ট্রেনারের পরামর্শ নিন: জিমে প্রথম দিন গিয়েই কোনো ভারী ওজন তোলার চেষ্টা করবেন না। এতে পেশির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং পেশির সঠিক গঠনও হয় না। শুরুতে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ এবং স্ট্রেচিংয়ের উপর বেশি মনোযোগ দিন। ওয়েট লিফটিংয়ের বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে বেশি ওজন তুলতে গেলে পেশিতে টান লেগে স্নায়ুর সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। তাই একজন অভিজ্ঞ ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে ওয়েট লিফটিং শুরু করুন।
প্রতিদিন কতখানি ক্যালোরি বার্ন হচ্ছে, তার হিসাব রাখুন: একদিনেই আপনার ওজন কমে যাবে না। তাই একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য স্থির করে সেই অনুযায়ী ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করুন। প্রথম সপ্তাহেই ২০ কেজি ওজন তোলার চেষ্টা না করে বিভিন্ন ব্যায়ামের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। প্রথম দুদিন প্রতিটি ব্যায়ামের দুটি করে সেট করলে, পরের দিন তিনটি করে সেট করার অভ্যাস করুন। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস করলে আপনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ওজন কমাতে সক্ষম হবেন।
সঠিক ডায়েট চার্ট মেনে চলুন: ওজন কমানোর জন্য শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলাও অপরিহার্য। প্রতিদিনের খাবারে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন। শুধু প্রোটিন খাওয়া যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই শুধু সেদ্ধ সবজি বা ফল খেয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী একটি সুষম ডায়েট চার্ট তৈরি করুন এবং তা কঠোরভাবে মেনে চলুন। মনে রাখবেন, একই ডায়েট দীর্ঘদিন অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রতি আড়াই মাস অন্তর ডায়েট পরিবর্তন করা জরুরি।
ধৈর্য ধরুন এবং নিয়ম মেনে জিম করুন: অনেকেই মনে করেন জিমে ভর্তি হলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে। তবে বাস্তবতা হলো, ওজন কমানোর এই যাত্রাটি একটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া। আপনার শরীরের গঠন এবং বর্তমান ওজনের উপর নির্ভর করে অন্তত তিন মাস সময় দিতে হবে। একটানা তিন মাস সঠিক ডায়েট এবং নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করলে ওজন যেমন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে, তেমনই আপনার শরীর আরও টোনড হবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে জিম করুন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।