গরম তেলে ছ্যাঁকা লাগলে ভুলেও বরফ নয়! জেনে নিন তাৎক্ষণিক উপশমের ঘরোয়া টোটকা

রান্না করতে গেলে অসাবধানতাবশত গরম তেলের ছিটা শরীরে লাগা অস্বাভাবিক নয়। সামান্য হলে হয়তো শুধু একটু জ্বালা অনুভব হয় এবং তা কিছুক্ষণের মধ্যেই কমে যায়। তবে তেলের ছিটা যদি বেশি পরিমাণে লাগে, তখন অসহ্য জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি অনেক সময় ফোস্কাও পড়ে যায়।

অনেকেই পুড়ে যাওয়া স্থানে দ্রুত আরাম পেতে বরফ ঘষতে শুরু করেন। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরফ রক্তপ্রবাহকে বাধা দেয়। ফলে পুড়ে যাওয়ার পর বরফ ঘষলে ত্বকের আরও বেশি ক্ষতি হতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আক্রান্ত স্থান কলের ঠান্ডা জলের নিচে রাখা।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতের কাছে ওষুধ না থাকলে তাৎক্ষণিক জ্বালাপোড়া কমাতে ঠান্ডা জল ছাড়াও কিছু সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ঘরোয়া উপায়গুলো:

> মধু: ক্ষতস্থানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর করতে এবং ব্যথা কমাতে মধু বিশেষভাবে কার্যকরী। তাই গরম তেলে পুড়ে যাওয়া স্থানে প্রথমে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর সামান্য মধু লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এটি জ্বালা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

> কলার খোসা: পোড়া জায়গায় কলার খোসা লাগালেও আরাম পাওয়া যায়। খোসার ভেতরের দিকটি আলতোভাবে ক্ষতস্থানের উপর রাখুন। যতক্ষণ না খোসা কালো হয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ এটি লাগিয়ে রাখতে পারেন।

> ভিনেগার: জলের সঙ্গে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড় ভিজিয়ে নিন। এবার সেই ভেজা কাপড়টি আলতো করে ক্ষতস্থানের উপর চেপে ধরুন। জ্বালা বেশি হলে কয়েকবার এমন করুন। ভিনেগারের অ্যাসিডিক উপাদান যন্ত্রণা কমাতে খুব সাহায্য করবে।

> অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা জেল পোড়া জায়গায় লাগালে সেই স্থান ঠান্ডা হয় এবং জ্বালা কমে যায়। বাড়িতে অ্যালোভেরা গাছ থাকলে তার পাতা কেটে সরাসরি ক্ষতস্থানে লাগান। অ্যালোভেরা পোড়া অংশের দাগ মেলাতেও সাহায্য করে।

> টক দই: গরম তেলে পুড়ে গেলে প্রথমে ঠান্ডা জলে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নিন। প্রায় ৩০ মিনিট পর সেখানে টক দই লাগান। দইয়ের অ্যাসিড পোড়া অংশের গরমকে নিজের দিকে টেনে নিতে সাহায্য করে, ফলে জ্বালা কমে আসে।

গরম তেলে পুড়ে গেলে দ্রুত ঠান্ডা জলের ব্যবহার এবং পরবর্তীতে এই ঘরোয়া টোটকাগুলো অবলম্বন করে আপনি প্রাথমিক আরাম পেতে পারেন। তবে পোড়া যদি গুরুতর হয়, অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।