কেন বিয়ের আংটি পরা হয় অনামিকায়? জেনে নিন এই চিরায়ত প্রথার অজানা কারণ

বিয়ে বা বাগদানের আংটি পরার সময় অনামিকা বা হাতের চতুর্থ আঙুলকেই বেছে নেওয়া হয়, এটি একটি বিশ্বজনীন প্রথা। কিন্তু কেন এই বিশেষ আঙুলেই প্রেম ও প্রতিশ্রুতির চিহ্ন ধারণ করা হয়? এই প্রথার পেছনে রয়েছে প্রাচীন বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং গভীর প্রতীকী অর্থ।
প্রাচীন রোমান সমাজে একটি বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, অনামিকা আঙুল থেকে সরাসরি হৃৎপিণ্ডে একটি শিরা গেছে, যার নাম ‘ভেনা এমোরিয়াস’ বা প্রেমের শিরা। এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই বিয়ের আংটি এই আঙুলে পরানোর চল শুরু হয়, যাতে ভালোবাসার বন্ধন সরাসরি হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আংটির গোলাকার রূপটিও শাশ্বত ও চিরন্তন প্রেমের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা পৃথিবীর অনেক সংস্কৃতিতেই প্রচলিত।
প্রাচীন চিনা আকুপাংচার বিদ্যায়ও এর একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। তাদের মতে, হাতের প্রতিটি আঙুল জীবনের এক একটি সম্পর্ককে নির্দেশ করে। যেমন—বুড়ো আঙুল পিতামাতার প্রতীক, তর্জনী ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনের প্রতীক, মধ্যমা হলো জাতক বা জাতিকা নিজে, আর কনিষ্ঠা হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা সন্তানদের প্রতীক। এই সম্পর্কের বিন্যাসে একমাত্র অনামিকা আঙুলটিই বাকি থাকে, যা জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীর জন্য নির্ধারিত।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও সামুদ্রিক শাস্ত্রেও অনামিকাকে প্রেমের আঙুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণেই শত শত বছর ধরে ভারতবর্ষে এই আঙুলে বিবাহের বা বাগদানের আংটি পরানোর প্রথা চলে আসছে। এই চিরায়ত প্রথা প্রমাণ করে যে, অনামিকা আঙুলের সঙ্গে হৃদয় ও ভালোবাসার এক গভীর সংযোগ রয়েছে, যা যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে স্বীকৃত।