অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙা কি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার জন্য অ্যালার্ম আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঘড়ি বা মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ি আমরা সবাই। কিন্তু প্রতিদিন এই অ্যালার্মের তীব্র শব্দে ঘুম ভাঙা কি আমাদের শরীরের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্রে ঘুম ভাঙার প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যারা বছরের পর বছর অ্যালার্মের শব্দ শুনে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের বেশ কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই সমস্যাগুলো সম্পর্কে:
১. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি
সমীক্ষা বলছে, যাদের অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবই এর মূল কারণ। অ্যালার্মের শব্দে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয় না, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন অ্যালার্মের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলে হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে বেড়ে যায়। কারণ হঠাৎ করে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলে শরীরে অ্যাড্রিন্যালিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এই কারণে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
৩. অবসাদ বৃদ্ধি
প্রতিদিন অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙলে একসময় তা অভ্যাসে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অবসাদের কারণ হতে পারে। অ্যালার্মের শব্দ আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস
গভীর ঘুমের মধ্যে অ্যালার্মের শব্দ কানে এলে আচমকা ঘুম ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমনটা হতে থাকলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায়। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ঘুমের সময় মানুষ যখন হঠাৎ জেগে উঠেছিল, তখন তাদের স্মৃতিশক্তি, জ্ঞানীয় ক্ষমতা এমনকি গণনার দক্ষতাও কমে গিয়েছিল।
৫. হজমজনিত সমস্যা বৃদ্ধি
অ্যালার্মের শব্দে হঠাৎ করে ঘুম ভাঙলে হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যাও বাড়তে পারে।
৬. রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি
জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেলথ দ্বারা পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারীরা হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন, তাদের রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও অ্যালার্ম আপনাকে সময়মতো জাগিয়ে দেওয়ার জন্য উপকারী, তবে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। তাই অ্যালার্ম ছাড়াই দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দৈনিক ঘুমের চাহিদা পূরণ হলে আপনি সময় মতোই জেগে উঠতে পারবেন। এজন্য একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। আর যদি মোবাইল বা অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে অবশ্যই মৃদু শব্দ বা কোনো শান্ত মিউজিক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপনার কি প্রতিদিন অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে? এই তথ্যগুলো জানার পর আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করার কথা ভাবছেন কি?