অফিসে ফিরছেন? শৌচাগার ব্যবহারে চাই বাড়তি সতর্কতা!

ঘরে বসে অফিসের কাজ করার দিনগুলো সম্ভবত ফুরিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই অনেক অফিস খুলতে শুরু করেছে, এবং যারা দীর্ঘদিন পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরছেন, তাদের জন্য কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, অফিসের শৌচাগার ব্যবহারের সময় সংক্রমণ এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। বাথরুমের আয়নায় নিজেকে ঠিকঠাক করে তারপর চেয়ারে এসে বসার পুরোনো অভ্যাস এখন আর চলবে না। যেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে বাথরুম শেয়ার করতেই হয়, সেখানে সামাজিক দূরত্ব বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?

নকশার পরিবর্তন বনাম ব্যক্তিগত সতর্কতা
উন্নত দেশগুলোতে একসঙ্গে অনেকে ব্যবহার করেন এমন শৌচাগারের নকশাতেই কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। যেমন, সব কলে সেন্সর লাগানো, লিকুইড সাবানের ডিসপেন্সার ছোঁয়ার প্রয়োজন না থাকা এবং বাথরুমে ঢোকা-বের হওয়ার স্বয়ংক্রিয় দরজা। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন সব জায়গায় দ্রুত সম্ভব নয়। তাহলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

শৌচাগার ব্যবহারের নতুন নিয়মাবলী
প্রথমেই বুঝে নিন, শৌচাগারে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করা বা সাজগোজ করাটা আর নিরাপদ নয়। এর কারণ, সাধারণত বাথরুমগুলো বদ্ধ এবং ছোট হয়, ফলে এরকম জায়গায় ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ সারুন। তবে, এর মানে এই নয় যে জল পান করা কমাবেন; এতে কিন্তু আরও নানান জটিল সমস্যা হতে পারে। দিনে আট থেকে দশ গ্লাস জল পান করতেই হবে এবং বাথরুমের চাপ এলে তা চাপিয়ে রাখা যাবে না। তাই সঙ্গে আপনার নিজের টিস্যু রোল আর টয়লেট সিট স্যানিটাইজার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ধাপে ধাপে সুরক্ষিত থাকুন
দরজার হাতল: বাথরুমে ঢোকার দরজার হাতলে সরাসরি হাত দেবেন না। টিস্যু দিয়ে ধরুন। কলের মাথাটাও একইভাবে খুলে নিন, তারপর টিস্যু ফেলে দিন।
হাত ধোয়া: প্রথমেই একবার হাত ধুয়ে নিন।
কিউবিকল ব্যবহার: কিউবিকলে ঢুকে স্যানিটাইজার ছড়িয়ে টিস্যু দিয়ে টয়লেট সিট মুছে নিন একবার। এরপর ব্যবহার করুন। নিজেকে ভালো করে ধুয়ে নিন।
ফ্লাশ ও স্যানিটাইজ: ফ্লাশ করার পর টয়লেট সিট ফের একবার স্যানিটাইজ করে দিন পরের ব্যবহারকারীর জন্য।
বেরোনোর পর: বেরিয়ে এসে খুব ভালো করে সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। তারপর নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
মনে রাখবেন, পাবলিক টয়লেটের কোনো সারফেস বা দরজার হাতল নিরাপদ নয়। ব্যবহারের আগে সে কথা মাথায় রাখবেন। কোথাও সরাসরি হাত দেওয়ার দরকার নেই। সবকিছু টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুন।

সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি ও পোশাক
স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সঠিক খাবার খান এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি অবশ্যই থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস বদলান, এবং সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করাও খুব জরুরি অভ্যাস।

অফিসে ফেরার এই নতুন পরিস্থিতিতে প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা আপনাকে এবং আপনার সহকর্মীদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।