একটি নবজাতক শিশু ঘরে আসার পর তাকে ঘিরে আনন্দের সীমা থাকে না। তবে সেই সাথে যোগ হয় একরাশ দুশ্চিন্তা—বিশেষ করে শিশুর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। অনেক পরিবারে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে স্নান করানোর তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। আপনার সোনামণিকে ঠিক কবে এবং কীভাবে স্নান করাবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের অন্তত ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে স্নান করানো একদমই উচিত নয়। যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে অন্তত ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক। এর প্রধান কারণ হলো, জন্মের সময় শিশুর গায়ে একটি সাদা মোমের মতো স্তর থাকে, যাকে বলা হয় ‘ভার্নিক্স কেসিওসা’। এটি শিশুকে বাইরের পরিবেশের ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। দ্রুত স্নান করালে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে ‘হাইপোথার্মিয়া’ হতে পারে, যা নবজাতকের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্নান করানোর সময় যা খেয়াল রাখবেন:
১. নাভি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা: যতক্ষণ না শিশুর নাভিকাটা অংশ বা আম্বিলিকাল কর্ড শুকিয়ে খসে পড়ছে, ততক্ষণ তাকে জলে ডুবিয়ে স্নান না করানোই ভালো। এই সময় ইষদুষ্ণ জলে নরম কাপড় ভিজিয়ে ‘স্পঞ্জ বাথ’ করানোই সবথেকে নিরাপদ।
২. জলের তাপমাত্রা: শিশুর জন্য জল যেন খুব গরম বা খুব ঠান্ডা না হয়। আপনার কনুই ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন।
৩. ঘরের পরিবেশ: শিশুকে এমন জায়গায় স্নান করান যেখানে ঠান্ডা বাতাস ঢোকার সম্ভাবনা নেই। স্নান শেষে দ্রুত মাথা ও শরীর মুছে শুকনো কাপড়ে জড়িয়ে নিন।
স্নানের সময় অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই সঠিক নিয়ম মেনে চললে আপনার শিশু থাকবে সুস্থ ও রোগমুক্ত।





