শরীর খারাপ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই, কিন্তু শরীর যখন খারাপ হওয়ার সংকেত দেয়, তখন কি আমরা তা বুঝতে পারি? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা প্রাথমিক লক্ষণগুলো এড়িয়ে চলি, যা পরবর্তীতে বড় কোনো রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, শরীরে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা বাসা বাঁধার আগেই আমাদের শরীর কিছু ‘ওয়ার্নিং সাইন’ বা সংকেত দেয়। আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা কেমন, তা জানতে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে যাওয়ার আগে ঘরে বসেই কিছু প্রাথমিক পরীক্ষা করতে পারেন।
নিজেকে পরীক্ষা করার ৫টি সহজ উপায়:
বিশ্রামকালীন হার্ট রেট: সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরে আপনার নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করুন। যদি প্রতি মিনিটে হার্ট রেট ৬০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে, তবে তা স্বাভাবিক। এর চেয়ে বেশি বা অনিয়মিত স্পন্দন হার্টের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
সিঁড়ি পরীক্ষা: কোনো ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক হাঁফানো ছাড়াই কি আপনি দুই তলা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারেন? যদি সামান্য সিঁড়ি ভাঙতেই দম ফুরিয়ে আসে, তবে বুঝতে হবে আপনার ফুসফুস বা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যে ঘাটতি রয়েছে।
শরীরের ভারসাম্য: এক পায়ে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে অন্তত ২০ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন। যদি ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয়, তবে এটি মস্তিষ্কের স্নায়বিক দুর্বলতা বা হাড়ের জয়েন্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
ত্বক ও নখের অবস্থা: নখের রং কি নীলচে বা অতিরিক্ত ফ্যাকাসে? ত্বকে কি আচমকা কোনো কালো তিল বা দাগ দেখা দিচ্ছে? নখ এবং ত্বকের পরিবর্তন লিভার বা কিডনির সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
কোমরের মাপ: স্থূলতা অনেক রোগের মূল। আপনার উচ্চতার তুলনায় কোমরের মাপ যদি অস্বাভাবিক বেশি হয়, তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এই পরীক্ষাগুলো কোনোভাবেই ডাক্তারের বিকল্প নয়, বরং এগুলো আপনাকে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন করার একটি মাধ্যম। কোনো পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা নজরে এলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।





