অনুব্রত-বায়রনের পর এবার ইউসুফ পাঠান! বিজেপির ‘অজেয়’ তকমা দিয়ে কী বোঝাতে চাইলেন তৃণমূল সাংসদ?

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল! পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে রাজ্যসভায় যাওয়া প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। গুজরাটের বরোদায় ভোট দিয়ে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত বিজেপির ‘অজেয়’ হওয়ার সার্টিফিকেট দিলেন তিনি। যা নিয়ে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

“ফ্যাক্টস আর ফ্যাক্টস”: কী বললেন ইউসুফ?
বরোদায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর ইউসুফ পাঠানকে বিজেপির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জানান, আগামী ৪০-৫০ বছর গুজরাটে বিজেপিকে কেউ হারাতে পারবে না। ইউসুফের কথায়,

“যে দল শক্তিশালী, জনগণের জন্য কাজ করে এবং জনগণের ভালোবাসা পায়—তারাই ক্ষমতায় থাকে। গুজরাটের মানুষ বিজেপিকে পছন্দ করেন এবং উন্নয়নের নিরিখেই ভোট দেন। ফ্যাক্টস আর ফ্যাক্টস।”

অস্বস্তিতে তৃণমূল, হাতিয়ার পেল বিজেপি
তৃণমূলের একজন হেভিওয়েট সাংসদ যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে পদ্ম শিবিরের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে কেষ্ট তথা অনুব্রত মণ্ডল এবং বায়রন বিশ্বাস দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। এবার ইউসুফের মুখে গুজরাট মডেলের এই প্রশংসা যেন রাজ্য বিজেপির পালে হাওয়া জোগাল।

উন্নয়ন না কি শুধুই আবেগ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউসুফ পাঠানের এই মন্তব্য বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, শাসনব্যবস্থা এবং ডেলভারি (কাজের গতি) যদি সঠিক থাকে, তবে জনগণের আস্থা টলানো মুশকিল। গুজরাটে বিজেপি শাসিত সরকার যে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরেছে, তা একজন তৃণমূল সাংসদ হয়েও অস্বীকার করতে পারেননি ইউসুফ।

বাংলার ভোটারদের মনে নতুন প্রশ্ন
রাজ্য রাজনীতিতে যখন হিংসা, সিন্ডিকেট রাজ আর বেকারত্ব নিয়ে বিরোধী দলগুলো সোচ্চার, তখন খোদ শাসকদলের নেতার এমন বয়ান তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্ত করছে। বাংলার ভোটাররা এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন—যদি উন্নয়নের মডেলে অন্য রাজ্যগুলো এগিয়ে যেতে পারে, তবে শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বাংলা কেন পিছিয়ে থাকবে?

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর প্রতি ইউসুফের এই ‘আকস্মিক টান’ আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy