হার্ট দুর্বল? এই ৫ লক্ষণ দেখলে আর দেরি নয়, দ্রুত নিন চিকিৎসা!

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এখন আর বয়স কোনো বাঁধা নয়, সব বয়সীদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে হার্টের নানা সমস্যা। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়মিত জীবনযাত্রা।
অন্যদিকে, করোনায় আক্রান্তদের অনেকেই সুস্থ হওয়ার পরেও ভুগছেন লং কোভিডে। এক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
তবে হার্টের বিভিন্ন রোগের লক্ষণ কমবেশি সবাই সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান। যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এজন্য সকলেরই জেনে রাখা উচিত ঠিক কোন কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন যে আপনার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি:
১. হৃদস্পন্দন বেড়ে বা কমে যাওয়া: হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সাধারণভাবে পালস রেট প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ এর মধ্যে থাকা স্বাভাবিক। তবে এর কমবেশি হলেই বুঝবেন আপনার হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। প্রায়ই যদি এই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. দুর্বলতা: শরীরে দুর্বলতা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি ক্লান্তি না কমে এবং দুর্বলতা অনুভব হয়, তাহলে বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আসলে হৃদপিণ্ড সারাদেহে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করে পৌঁছে দেয়। হার্ট দুর্বল হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো সারা শরীরে পৌঁছাতে পারে না। ফলে শরীরে দেখা দেয় দুর্বলতা ও ক্লান্তি।
৩. বুকে ব্যথা: প্রায়শই বুকে ব্যথার লক্ষণকে বেশিরভাগ মানুষই অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করেন। তবে বুকে ব্যথার সমস্যা নিয়ে অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। কারণ এটি হতে পারে হৃদরোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ঘন ঘন বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪. শ্বাসকষ্ট: হার্টে কোনো সমস্যা থাকলে রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন। আসলে হৃদপিণ্ড ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। তাই এই লক্ষণ দেখলে একেবারেই অবহেলা করবেন না।
৫. শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা: ঘাড়, চোয়াল, গলা, পেটের উপরের অংশে বা পিঠে ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার লক্ষণও কিন্তু হৃদরোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও শারীরিক এই সমস্যাগুলোকে কখনো উপেক্ষা করা উচিত নয়।
যদি আপনি এই লক্ষণগুলোর কোনোটি অনুভব করেন, তাহলে আর দেরি না করে দ্রুত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে হৃদরোগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। আপনার জীবন অমূল্য, তাই হার্টের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিন।