সুস্থতার জন্য ঘুমের গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঘুমানোর সঠিক পদ্ধতি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একমত, সুস্থ থাকার জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম শুধু শরীরকে চাঙ্গা রাখে না, মনকেও ফুরফুরে করে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক এবং মানসিক সমস্যাগুলির সমাধানে সহায়ক, আর তাই বলা যায়, সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হচ্ছে সঠিক ঘুম।
তবে সুস্থ থাকার জন্য শুধু ঘুমের পরিমাণই নয়, ঘুমানোর পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ‘স্লিপিং প্যাটার্ন’ বা ঘুমানোর পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। অর্থাৎ, আপনি কীভাবে এবং কোন ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছেন, তার ওপরও আপনার সুস্থতা নির্ভর করে।
বাঁ পাশ ফিরে ঘুমানোর উপকারিতা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাঁ পাশ ফিরে ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁ দিকে শোয়া লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং তা আরও উন্নত করতে সাহায্য করে। এর ফলে বদহজম, বুকজ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অম্বলের মতো সমস্যা কমে আসে। অনেকেই এই সমস্যাগুলোর সমাধানে ওষুধ বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করেন, কিন্তু বাঁ পাশ ফিরে ঘুমালেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
অনিদ্রার সমস্যার সমাধানেও বাঁ পাশ ফিরে ঘুমানো সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নাক ডাকার সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে, বাঁ দিকে শোয়া হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গর্ভাবস্থায়ও মহিলাদের বাঁ পাশ ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
কীভাবে ঘুমানো উচিত এবং কীভাবে নয়
তবে ক্রমাগত একইদিকে ফিরে ঘুমালে কাঁধে এবং সেদিকে থাকা শরীরের অংশে ব্যথা হতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় দিক পরিবর্তন করে শোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, কখনই গুটিসুটিভাবে হাঁটু মুড়ে শোয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একটানা এইভাবে ঘুমালে পিঠে এবং ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে, যা মেরুদণ্ডের জন্যও ক্ষতিকর। উপুড় হয়ে শোয়ার ফলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে, যার ফলে ঘাড়, পিঠ এবং কাঁধে ব্যথা হতে পারে। তাছাড়া, এতে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টও দেখা দিতে পারে।
চিৎ হয়ে শোয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এতে স্লিপ অ্যাপনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং নাক ডাকার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমের জন্য সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।
নতুন জীবনযাত্রার জন্য ঘুমের গুরুত্ব
সুস্থ জীবনযাপন ও দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত এবং সঠিক ঘুমের কোন বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিনের স্লিপিং প্যাটার্ন সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে।