রূপকথার গল্পে সুন্দরীদের দেখে রাজপুত্তুরদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার কথা আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় যা উঠে এসেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। গবেষকদের দাবি, সুন্দরী নারীদের সান্নিধ্যে এলে পুরুষদের হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। স্পেনের ‘ইউনিভার্সিটি অফ ভ্যালেন্সিয়া’-র একদল গবেষক এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন।
কী বলা হয়েছে এই গবেষণায়? কেন এমনটা ঘটে? জেনে নিন বিস্তারিত:
১. কর্টিসল হরমোনের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো সুন্দরী নারীর সঙ্গে যখন একজন পুরুষ কথা বলেন বা মাত্র ৫ মিনিট সময় কাটান, তখন সেই পুরুষের শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কর্টিসল হলো এমন একটি হরমোন যা সাধারণত মানুষ খুব চাপে থাকলে বা ভয়ের পরিস্থিতিতে থাকলে নির্গত হয়।
২. হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ
শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। গবেষকদের মতে, বেশিরভাগ পুরুষ সুন্দরী নারীদের সামনে নিজেদের জাহির করতে বা কথা বলতে গিয়ে এক ধরণের মানসিক চাপে ভোগেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে হৃদযন্ত্রে।
৩. সামাজিক ও মানসিক কারণ
গবেষকরা বলছেন, সুন্দরী নারীদের সান্নিধ্যে এলে পুরুষদের মনে অবচেতনভাবে একটি ধারণা তৈরি হয় যে, তারা সম্ভবত ওই নারীর যোগ্য নন অথবা তাঁকে প্রভাবিত করা খুব কঠিন হবে। এই চিন্তা থেকেই স্নায়বিক চাপ বা নার্ভাসনেস তৈরি হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
৪. গবেষণার ধরণ
প্রায় ৮৪ জন যুবকের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। দেখা গেছে, যখন কোনো সুন্দরী নারী ঘরে প্রবেশ করছেন, তখন পুরুষদের কর্টিসলের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। আবার ওই নারী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে সেই মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে আগে থেকেই পরিচিত কোনো বান্ধবীর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন তেমন দেখা যায়নি।
তবে কি ভয়ের কিছু আছে?
চিকিৎসকরা বলছেন, এই গবেষণার অর্থ এই নয় যে সুন্দরী নারীদের এড়িয়ে চলতে হবে। বরং এটি একটি শারীরিক বিক্রিয়া মাত্র। শরীর চর্চা, সঠিক জীবনযাপন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মাধ্যমে এই ধরণের স্নায়বিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।





