সামান্য টেনশনেই বাথরুমের চাপ? সতর্ক হন! জেনে নিন আইবিএস ও তার প্রতিকার

জীবনে চাপ বা টেনশন আসা স্বাভাবিক। তবে অনেকেই আছেন যারা সামান্য টেনশন কিংবা চাপেও বারবার বাথরুমে ছোটেন, অর্থাৎ টেনশনের মুহূর্তে তাদের মলত্যাগের চাপ চলে আসে। এটি সাধারণ মনে হলেও আসলে কিন্তু তা নয়। এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। এই সমস্যার নাম আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable Bowel Syndrome)।
আইবিএস কী এবং কেন হয়?
আইবিএস সম্পর্কে বেশিরভাগেরই সঠিক ধারণা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইবিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তির বৃহদন্ত্র খুব স্পর্শকাতর ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পেটে যেসব সমস্যা অনুভূত হয় না, আইবিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেগুলো সহজেই বুঝতে পারেন।
আইবিএস-এ আক্রান্ত হলে পেটে সব সময়ই অস্বস্তি থাকে। সামান্য টেনশন হলেও পায়খানার চাপ চলে আসে। অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাথরুমের চাপ চলে আসে। এই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পাঁচটি খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত:
আইবিএস রোগীদের যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত:
কাঁচা মরিচ: কাঁচা মরিচের ভেতরে ক্যাপসিসিন (Capsaicin) নামক একটি উপাদান থাকে। এই উপাদান আইবিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে তারা কাঁচা মরিচ এবং ক্যাপসিকাম—উভয়ই এড়িয়ে চলবেন।
পেয়ারা: পেয়ারা একটি উপকারী ফল হলেও আইবিএস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বিপরীত ফল দিতে পারে। এই ফলে থাকা ফাইবার এবং পেয়ারার বীজ পেটে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই আইবিএস থাকলে পেয়ারা থেকে দূরে থাকুন।
পটল: আইবিএস-এর সমস্যা থাকলে পটল খেলেও অসুখ বাড়তে পারে। পটলের বীজ থেকে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে যদি পটলের বীজ ফেলে রান্না করা হয়, তাহলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাই পটল খেতে চাইলে বীজ ফেলে খাবেন। এতে রোগের বাড়াবাড়ি হবে না এবং পটলের পুষ্টিগুণও পাবেন।
আপেল: অনেক উপকারী খাবারও আইবিএস-এ আক্রান্ত রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তেমনই একটি খাবার হলো আপেল। আপেলের খোসা থেকে আইবিএস-এ আক্রান্ত রোগীর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হলে আপেলের খোসা এড়িয়ে যাবেন। আপেল খেতে চাইলে খোসা ছাড়িয়ে তারপর খাবেন।
দুধ: অনেকের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (Lactose Intolerance) থাকে। আইবিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত দুধ খেলে সমস্যা বাড়তে থাকে। যে কারণে এ ধরনের সমস্যায় দুধ থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়াও অন্যান্য দুগ্ধজাত পদার্থ থেকে সমস্যা হলে সেগুলোও এড়িয়ে চলা উচিত।
উপসংহার:
আইবিএস একটি পরিচিত সমস্যা হলেও এর প্রতিকার সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আপনার যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এই তথ্যগুলো কি আপনাকে আইবিএস সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করেছে?