শরীরের কোথায় ব্রণ হচ্ছে? জেনে নিন কোন সমস্যার ইঙ্গিত

মুখের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা কমবেশি সকলেরই থাকে। কারণ এটি ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। তবে শুধু মুখেই নয়, অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ব্রণ দেখা যায়। কারও নাকের উপর, কারও চোয়ালে, ঘাড়ে, বুকে, পিঠে কিংবা হাঁটুতে। কিন্তু শরীরের কোন অংশে কী কারণে ব্রণ হচ্ছে, সে বিষয়ে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্রণ কোন স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দেয়-
মুখে: মুখে ব্রণের সমস্যা প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। মুখের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ঘন ঘন স্পর্শ করার কারণেও ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে। মূলত হরমোন এবং জিনগত কারণে মুখের ত্বকে ব্রণ দেখা যায়। তবে যদি প্রায়শই ত্বকে ব্রণের সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি দিনে দু’বার হালকা ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন এবং নন-কমেডোজেনিক ও অয়েল ফ্রি প্রসাধনী ব্যবহার করুন।
নাকের উপর: নাকের ত্বকের ছিদ্রগুলো সাধারণত বড় হয়ে থাকে। ফলে সহজেই ময়লা বা ব্যাকটেরিয়া আটকে যায়। এছাড়াও নাকের ত্বক তুলনামূলকভাবে বেশি তৈলাক্ত হওয়ায় সেখানে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ডায়েট, স্ট্রেস এবং কিছু ওষুধের কারণেও নাকে ব্রণ হতে পারে। মাঝেমধ্যে এটি আরও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
কপালে: চুল তৈলাক্ত হলে কপালে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত চুল শ্যাম্পু করা জরুরি। পোমেড, জেল ও মোমযুক্ত প্রসাধনীতে কোকো বাটার বা নারকেল তেল থাকে, যা ত্বককে অতিরিক্ত তৈলাক্ত করে তোলে। এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
চোয়াল ও ঘাড়ে: হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে শরীরে অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে চোয়াল ও ঘাড়ে ব্রণ হতে পারে। বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে এটি মাসিকচক্রের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়াও জন্মনিয়ন্ত্রণের মতো ওষুধ সেবনের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গালে: গালে ব্রণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মোবাইল ফোন ব্যবহার করা। ফোনে কথা বলার সময় গালের ত্বকে ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, যার ফলে ব্রণের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অপরিষ্কার বালিশ ও চাদরে থাকা বিভিন্ন জীবাণুও গালের ব্রণের কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত বালিশের ওয়াড় ও চাদর পরিষ্কার রাখা জরুরি।
পিঠে: পিঠে ব্রণ হওয়ার কারণ হতে পারে বডি ক্রিম, ম্যাসাজ অয়েল বা ওয়াক্সের অ্যালার্জি। অতিরিক্ত ঘামের কারণেও পিঠে ব্রণ হতে পারে। ঘাম, ত্বকের তেল এবং বিষাক্ত পদার্থ একসঙ্গে মিশে লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রণ হতে পারে। অনেকেই স্নানের সময় ভালোভাবে পিঠ পরিষ্কার করেন না, যার কারণে পিঠের ব্রণ বাড়তে থাকে। এছাড়াও নোংরা জামাকাপড়, কম্বল, বিছানার চাদর এবং খুব আঁটসাঁট পোশাকের কারণেও পিঠে ব্রণ হতে পারে।
পায়ে: ব্যাকটেরিয়া, সিবাম এবং ত্বকের মৃত কোষ লোমকূপে আটকে গেলে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। অপরিষ্কার পা এবং দীর্ঘক্ষণ একই জুতা পরে থাকার কারণে পায়ে ব্রণ হতে পারে। এছাড়াও ফলিকুলাইটিস, একজিমা বা কেরাটোসিস পিলারিসের মতো সমস্যার কারণেও পায়ে ব্রণ দেখা দিতে পারে। তবে ব্রণে যদি চুলকানি বা ব্যথা হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বুকে: খুব আঁটসাঁট পোশাক পরার কারণেই বেশিরভাগ সময় বুকে ব্রণ হতে পারে। এছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট বডি লোশন ব্যবহারের ফলেও বুকে ব্রণ দেখা দিতে পারে। পোশাকের ঘষা এবং লোশনের রাসায়নিক উপাদান বুকের ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ব্রণ হয়।