রোগ প্রতিরোধ থেকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, গুণের আধার আমলকি, তবে অতিরিক্ত খেলে বিপদ

আমলকি আমাদের সবার কাছে সুপরিচিত একটি ফল। এটি শুধু কবিগুরুর গানেই নয়, আমাদের স্বাস্থ্য পরিচর্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ভেষজ ফলকে তাই ‘মাদার অব ফ্রুটস’ বা ফলের জননীও বলা হয়ে থাকে। এতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। ১০০ গ্রাম আমলকিতে প্রায় ৬০০-৭০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা পেয়ারা বা অ্যাভোকোডোর চেয়ে অনেক বেশি।
যেসব স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর আমলকি
সর্দি-কাশি প্রতিরোধ: সিজন চেঞ্জের সময়ে আমলকি খেলে তা সর্দি ও কাশি থেকে শরীরকে দূরে রাখতে পারে। এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টগুলো শ্বাসনালির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: আমলকি শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)-এর মাত্রা কমে। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পরোক্ষভাবে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতেও সাহায্য করে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতিরিক্ত সেবনে বিপদ
আমলকি খুবই উপকারী হলেও, এর অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় বেশি খেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, মুখের মধ্যে বা জিভে প্রদাহও হতে পারে।
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের নুন মেশানো শুকনো আমলকি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এছাড়াও, কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের আমলকি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে পটাশিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি থাকে।
আমলকি খাওয়ার সঠিক উপায়
সবার জন্য তাজা আমলকি খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সকালে খালি পেটে এক কুচি কাঁচা আমলকি এক গ্লাস গরম জলের সঙ্গে বা এক চা চামচ আমলকির জুস হালকা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। শুকনো আমলকিতে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ অনেকটাই কমে যায় এবং নুন মেশানো হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।