সুস্থ থাকার জন্য ডায়েট চার্টে কত পরিবর্তনই না আমরা করি। কিন্তু আমাদের অজান্তেই রান্নার তেল অনেক সময় শরীরের বড় ক্ষতি করে ফেলে। বর্তমানে মানুষ সচেতন হচ্ছে এবং প্রথাগত রিফাইন তেলের বদলে এমন কিছু তেলের দিকে ঝুঁকছে যা হৃদরোগ, মেদবৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। সুস্থ হার্ট এবং উন্নত হজমশক্তির জন্য রান্নার তেলের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রতিক সময়ে সবথেকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল। বিশেষ করে ‘এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল’ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে প্রমাণিত। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। আধুনিক ডায়েট যারা অনুসরণ করেন, তাদের প্রথম পছন্দ এখন এটিই।
আবার গ্রামবাংলার সেই আদি অকৃত্রিম ঘানি ভাঙা সরিষার তেল নতুন করে ফিরে এসেছে ডাইনিং টেবিলে। এতে থাকা ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রাইস ব্র্যান অয়েল বর্তমানে অনেক ঘরেই জায়গা করে নিয়েছে, কারণ এর স্মোক পয়েন্ট বেশি হওয়ায় এটি ভাজাভুজির জন্য নিরাপদ এবং কোলেস্টেরল মুক্ত। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে সারা দেশে নারকেল তেল রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে এর মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডের জন্য, যা দ্রুত শক্তি জোগায়।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একটি তেল দীর্ঘকাল ব্যবহার না করে মাঝেমধ্যে তেল বদলে ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো। সর্বদা চেষ্টা করুন প্রসেসড বা ডাবল রিফাইন তেলের বদলে কোল্ড প্রেসড বা ঘানি ভাঙা তেল ব্যবহার করতে। সঠিক তেল নির্বাচনই আপনার দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি হতে পারে।





