বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। আর তার কয়েক ঘণ্টা আগে শহরের হাইরাইজ এবং গেটেড কমপ্লেক্সগুলোর জন্য নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাত থেকেই বড় বড় আবাসনের গেটে মোতায়েন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত বহুতল বা কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা বুথগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
কেন এই কড়া ব্যবস্থা?
কলকাতার বেশ কিছু নামী হাইরাইজ এবং কমপ্লেক্সের ভেতরেই পোলিং বুথ তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
আবাসনের ভেতরে থাকা বুথে অনেক সময় বহিরাগতদের প্রবেশ বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে।
ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই ভোট নিশ্চিত করতে বাহিনীর টহল জরুরি।
আজ রাত থেকেই এই সমস্ত কমপ্লেক্সের প্রবেশপথে কড়া চেকিং এবং পরিচয়পত্র যাচাই করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বাসিন্দাদের জন্য নতুন নির্দেশিকা: কী জানা যাচ্ছে?
কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আবাসন কমিটি (RWA) এবং বাসিন্দাদের জন্য বেশ কিছু গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে: ১. বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত কমপ্লেক্সের ভেতরে কোনো অ-ভোটার বা বহিরাগত (আত্মীয়, বন্ধু বা রাজনৈতিক কর্মী) থাকতে পারবেন না। ২. পরিচয়পত্র যাচাই: আবাসিকরা যখন কমপ্লেক্সে ঢুকবেন বা বেরোবেন, তাঁদের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হতে পারে। ৩. বাহিনীর অবস্থান: শুধুমাত্র পোলিং স্টেশনের সামনে নয়, এবার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বার এবং করিডোরেও টহল দেবে আধাসামরিক বাহিনী।
নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হাইরাইজ বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটদানের হার কিছুটা কম থাকে। সেই আলস্য কাটাতে এবং তাঁদের ‘ভোটমুখী’ করতে আবাসনের দোরগোড়ায় নিরাপত্তা পৌঁছে দিচ্ছে কমিশন। কমিশনের বার্তা সাফ— কোনো ভয় বা প্ররোচনা ছাড়াই নিজের আবাসন চত্বরে থাকা বুথে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।
উল্লেখ্য, বুধবার ভবানীপুরসহ ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। শহরের আবাসনগুলোতে এই অতিরিক্ত নিরাপত্তার জেরে শান্তিপূর্ণ ভোট হবে বলেই আশা করছে কমিশন।





