রাতের বেলা ঘুম ভাঙছে গলা শুকিয়ে? হতে পারে গুরুতর রোগের লক্ষণ!

বর্তমানের ঘরবন্দি জীবনে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। কারো ভালো ঘুম হচ্ছে না, কারো ঘুম আসতে দেরি হচ্ছে, আবার কেউ বা খুব কম ঘুমোচ্ছেন। এমনকি রাতে ঘুমানোর জন্য ছটফট করলেও অনেকেরই ঠিকমতো ঘুম আসে না। আর এই ঘুমের সমস্যার মধ্যেই অনেকে আরও একটি অদ্ভুত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন – চোখ বুজলেই গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া, যেন সারাদিন এক ফোঁটা জলও মুখে পড়েনি! প্রায়ই এমনটা হলে কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, এই উপসর্গগুলো কিছু রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

কেন গলা শুকিয়ে যায় রাতে?
রাতের বেলা গলা শুকিয়ে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু সাধারণ কারণ থেকে শুরু করে কিছু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও জড়িত থাকতে পারে। জেনে নিন সম্ভাব্য কারণগুলো:

১. হাঁপানি (অ্যাজমা) এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া: যাদের হাঁপানির সমস্যা আছে, তারা অনেক সময় নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এর ফলে মুখের লালা শুকিয়ে যায় এবং বারবার জল পিপাসা পায়, যা রাতের বেলা গলা শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

২. ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ: ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণীয় উপসর্গ হলো গলা শুকিয়ে যাওয়া। এছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও রাতে অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং গলা শুকিয়ে যেতে পারে। তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করানো জরুরি।

৩. নার্ভের সমস্যা ও অবসাদ: নার্ভের রোগীদের মধ্যেও রাতে গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। এমনকি যারা অবসাদে (ডিপ্রেশন) ভোগেন, তাদের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি শরীরের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপকে প্রভাবিত করে।

৪. স্ট্রোক পরবর্তী প্রভাব: স্ট্রোকের পরেও অনেক সময় গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। স্ট্রোক মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে, যা লালা উৎপাদন এবং গিলে ফেলার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কী করবেন?
রাতের বেলা গলা শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেন:

ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপান মুখ এবং গলার আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যা গলা শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
চা বা কফির পরিমাণ কমান: চা এবং কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে, যা গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
নাক বন্ধ থাকলে ভাপ নিন: সর্দির কারণে নাক বন্ধ থাকলে ভাপ নিলে শ্বাস-প্রশ্বাস সহজ হয় এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা কমে।
বেশি করে জল পান করুন: সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা শরীরকে সতেজ রাখে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে, যা গলা শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।