পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য অপরিহার্য, এটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু ‘বেশি বিশ্রাম’ পাওয়ার আশায় আপনি কি প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সময় বিছানায় কাটাচ্ছেন? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে জেনে রাখুন—আপনার এই প্রিয় অভ্যাসটিই আপনার আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, কম ঘুমের মতো অতিরিক্ত ঘুমও শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক।
কেন অতিরিক্ত ঘুমকে ‘মরণফাঁদ’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমান এবং অলস জীবনযাপন করেন, তাদের শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা একে সরাসরি ‘অকাল মৃত্যুর’ অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে তা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি করে।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় আঘাত
অতিরিক্ত ঘুম কেবল শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও মানসিক অবসাদের লক্ষণ প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘক্ষণ বিছানায় থাকায় মানুষের সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়, ফলে তারা ধীরে ধীরে বিষণ্ণ হয়ে পড়েন।
স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ!
বেশি ঘুমানোর ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ হয় না বললেই চলে। এতে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়, যা পরবর্তীতে স্থূলতায় রূপ নেয়। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের হৃদযন্ত্রের ধমনীর রোগ বা ‘করোনারি আর্টারি ডিজিজ’-এর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ!
আয়ু কমে যাওয়ার আশঙ্কা
প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর করা এক বিশাল গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। দীর্ঘ ঘুমের কারণে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।
সুস্থ থাকতে করণীয় কী?
চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘায়ু পেতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুমই যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি ঘুম মানুষকে অলস ও কর্মবিমুখ করে তোলে, যা পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মনে রাখবেন, সুস্থ থাকতে কেবল ঘুমের পরিমাণ নয়, বরং জীবনযাত্রার মান এবং শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজই অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং একটি সক্রিয় জীবন শুরু করুন!





