বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ! রাতে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি? হতে পারে মারাত্মক লক্ষণ

বর্তমানে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। লিভারের এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে যকৃত তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে, যা থেকে শরীরে একাধিক জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হলে লিভারে অতিরিক্ত পরিমাণে চর্বি জমা হয়। যদিও একটি সুস্থ লিভারেও সামান্য পরিমাণে চর্বি থাকে, তবে সেই পরিমাণ লিভারের ওজনের ৫-১০ শতাংশের বেশি হলে তা অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তদের মধ্যে ৭-৩০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ ক্রমশ গুরুতর হতে থাকে। এর ফলে লিভার আরও ফুলে যায়, লিভারের টিস্যুতে দাগ পড়ে, এমনকি পেটেও কালচে ছোট দাগ দেখা দিতে পারে। ফ্যাটি লিভার এক সময় লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগেরও কারণ হতে পারে।

যদিও ফ্যাটি লিভার রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করার কারণে অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ভুল জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস মূলত নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের অন্যতম প্রধান কারণ। নন-অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথমদিকে কোনো উপসর্গ টের না পেলেও পরবর্তী সময়ে এটি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সন্ধ্যা বা রাতে হাত-পায়ের তালুতে ‘চুলকানি’ অনুভব করতে পারেন। এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এটি ফ্যাটি লিভারের অন্যতম একটি গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। নিয়মিত এই সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

তবে মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুসারে, ফ্যাটি লিভারের রোগে চুলকানি একটি বিরল ঘটনা। এটি প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিস (পিবিসি), প্রাইমারি স্ক্লেরোসিং কোলাঞ্জাইটিস সহ অন্যান্য ধরনের লিভারের রোগের একটি সাধারণ লক্ষণ।

কেন এমন চুলকানি হয়?

বিজ্ঞানীরা এখনও লিভারের রোগের সঙ্গে যুক্ত চুলকানির সঠিক কারণ শনাক্ত করতে পারেননি। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, যাদের যকৃতের রোগ রয়েছে, তাদের ত্বকের নীচে পিত্ত লবণের উচ্চ মাত্রা থাকার কারণে চুলকানি সৃষ্টি হতে পারে। লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কেন চুলকানি অনুভব করেন, তার পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে সিরাম অ্যালকালাইন ফসফেটেস (এএলপি)। এটি একটি এনজাইম যা রক্তে পাওয়া যায় এবং শরীরে প্রোটিন ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে।

চুলকানি প্রতিরোধে করণীয়:

হালকা সুগন্ধিমুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।
স্নানের সময় হালকা গরম বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন।
চুলকানির জায়গায় ঠান্ডা বা ভেজা কাপড় লাগান।
রোদ বা গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
ফ্যাটি লিভারের আরও যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন:

মায়ো ক্লিনিকের মতে, এই রোগ সাধারণত কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ সৃষ্টি করে না। তবে ফ্যাটি লিভারের রোগীরা নিয়মিত ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও পেটের উপরের ডান দিকে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। এছাড়াও আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন-

পেট ফুলে যাওয়া
ত্বকের নীচে রক্তনালী দেখা যাওয়া
প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া
হাত-পায়ের তালু লাল হয়ে যাওয়া
জন্ডিস
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে:

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা এবং ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট বেছে নিন, যাতে বেশি ফল ও সবজি এবং কম প্রক্রিয়াজাত ও তৈলাক্ত খাবার থাকে। যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো রোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং মেডিকেল চেকআপের মধ্যে থাকা উচিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy