বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া পরিস্থিতি এখন এক চরম উদ্বেগের নাম। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের প্রায় দুই কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে থ্যালাসেমিয়ার বাহক। অর্থাৎ প্রতি ৮ জনে একজন এই রোগের জিন বহন করছেন। সবচাইতে ভয়ংকর তথ্য হলো, বাহকরা নিজেরাও জানেন না যে তারা এই রোগের ধারক, কারণ তাদের শরীরে কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন দুইজন বাহক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
প্রতিরোধে আমাদের করণীয়:
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তাল্পতাজনিত রোগ, যার কোনো স্থায়ী নিরাময় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। তাই ‘চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই নীতি এখানে সবচেয়ে কার্যকর। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ নির্মূলের একমাত্র পথ হলো বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তবে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা অথবা গর্ভকালীন বিশেষ পরীক্ষা করানো জরুরি।
সামাজিক সচেতনতা ও পদক্ষেপ:
সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেকেই এই পরীক্ষা করতে ভয় পান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রক্তাল্পতায় ভোগা একটি শিশুর সারা জীবনের কষ্ট এবং প্রতি মাসে রক্ত নেওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে সচেতনতাই একমাত্র অস্ত্র। স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকে রক্ত পরীক্ষার বিষয়ে প্রচারণা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আত্মীয়র মধ্যে বিয়ে (Consanguineous marriage) থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আসুন, একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করি আমাদের অনাগত সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যৎ।





