বঙ্গ নির্বাচনের রণক্ষেত্রে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম দফার ভোট শেষ হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকের দেওয়া একটি নির্দেশিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কমিশনকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের অবস্থানের স্বপক্ষে হলফনামা বা জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
ঠিক কী ঘটেছিল? সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক রাজ্য পুলিশকে একটি তালিকা পাঠিয়ে প্রায় ৮০০ জন নাগরিককে ‘ট্রাবল মেকার’ বা গোলমাল সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। ওই নির্দেশিকায় পুলিশকে বলা হয়েছিল, ভোটের আগে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (যেমন গ্রেপ্তার বা এলাকা ছাড়া করা) নিতে হবে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, এই তালিকায় তাদের বহু সক্রিয় কর্মী এবং পদাধিকারীর নাম রয়েছে, যাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।
হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: বুধবার এই মামলার শুনানিতে আদালত জানায়:
গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ: যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে একদল নাগরিককে ‘গোলমাল সৃষ্টিকারী’ তকমা দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে।
অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ: আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের ওই নির্দেশিকার কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ওই তালিকার ভিত্তিতে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
২৪ ঘণ্টার সময়সীমা: তৃণমূলের করা আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ এবং আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছে আদালত।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে এবং ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকার দোহাই দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আদালতের এই রায়ের পর শাসক শিবিরের দাবি, কমিশনের পক্ষপাতিত্ব আজ প্রমাণিত। অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ভোটের মাঝপথে হাইকোর্টের এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল এবং তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





